তরুণ ভট্টাচার্য্য, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
সমতলে দিন দিন কদর বাড়তে শুরু করেছে পাহাড়ি লতাপাতা, শাকসবজির। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌসুমি পাহাড়ি শাকসবজির ছোটো ছোটো হাট-বাজারও গড়ে উঠেছে এ সময়ে। এসব হাট-বাজারে পাহাড়ের শাকসবজির যোগান যাচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা থেকে। সবচেয়ে বেশি শাকসবজির রপ্তানি হয় খাগড়াছড়ি জেলা থেকে।
ব্যবসায়ীরা এসব শাকসবজি কলাপাতা মুড়িয়ে বস্তা ও কার্টনে ভরে ট্রাকে করে চালান করছেন ঢাকা ও চট্টগ্রামে। সমতলে রপ্তানি হওয়া শাকসবজির মধ্যে রয়েছে পাহাড়ি ধানি মরিচ, মোয়া আলু, খৈয়াং আলু, শিম, আলু, কাসাবা, সাবারাং, খুসী, রাম কলার মোচা, কলাগাছের বাকল, পাহাড়ি কচু, মেছতা (আমিলা) শাক, মেছতা গোটা, কাঁঠালের মুচি, বাঁশের মুথা বা কুরুল, পুতি বেগুন, খনাগুলা, পাহাড়ি বরবটি, কাঁচা তেঁতুল, ঢেঁকিশাক, থানকুনি পাতা, তেলাকুচি শাক, নানা জাতের ওল, মাশরুম, রায় শাক, মুলার ঢেক ও কাঁচা বিচি, পেয়ারা ও আম গাছের কচি পাতা ইত্যাদি।
পাহাড়ি সবজিব্যবসায়ী নিখিল চাকমা ও পলাশ চাকমা জানান, ‘এ ব্যবসায় আমরা লাভবান হচ্ছি। স্থানীয় উত্পাদনকারীরাও বাণিজ্যিক চিন্তায় এখন দ্বিগুণ উত্সাহে পাহাড়ে পাহাড়ে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার ছাড়াই মিশ্র শাকসবজি চাষে উত্সাহিত হচ্ছেন।
স্থানীয় জুমচাষি ও মৌসুমি সবজি বিক্রেতা চিকনমালা চাকমা, সুমতি ত্রিপুরা, ননীবালা ত্রিপুরা, হেমদা রঞ্জন ত্রিপুরা ও রাম মোহন ত্রিপুরা জানান, ‘আমরা বংশ পরম্পরায় পরিবারের প্রয়োজনে বসত ভিটায় ও জুমের মিশ্র চাষে শাকসবজির আবাদ করতাম। গত দুই বছর ধরে দেখছি নৃ-গোষ্ঠী ব্যবসায়ীরা এসব সবজি কিনে নিয়ে ট্রাকে বোঝাই করে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পাঠাচ্ছেন। আমরা এতে উত্সাহিত হয়ে চাষাবাদ বাড়িয়েছি। দামও পাচ্ছি।’
খাগড়াছড়ি সদর ও মাটিরাঙ্গা উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবদুল হাই ও দেবর্শী চাকমা জানান, দেশের পরিচিত শাকসবজির পাশাপাশি পাহাড় অঞ্চলে জুমচাষিদের উত্পাদিত এমন কিছু কৃষিপণ্য রয়েছে যার চাহিদা এখন ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায়ও এসব কৃষিপণ্যের চালান বা রপ্তানির চিত্র চোখে পড়ছে। মাঠ পর্যায়ে এসব কৃষি পণ্যের প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
