বিদায়ি ২০১৯-এ সোনায় মোড়ানো এক বছরই কাটিয়েছে বাংলাদেশ আর্চারি দল। তবে শেষ ১২ মাসে বৈশ্বিক, মহাদেশীয় ও আঞ্চলিক আসরে রোমান সানাদের সাফল্য ঢেকে দিয়েছে অন্যান্য ডিসিপ্লিনের ব্যর্থতা। বছরের শেষ দিকে এসএ গেমসে তায়াকোয়ান্দো, ফেন্সিং, কারাতে ও ভারোত্তোলনে বাংলাদেশ স্বর্ণ জিতলেও হতাশ করেছে শুটিং, সাঁতারের মতো ডিসিপ্লিনগুলো।
তিরন্দাজদের সোনালি বছরে শুরুটা করেছিলেন রোমান সানা। বিশ্বকাপ আর্চারির ব্রোঞ্জ ফাইনাল জিতে অলিম্পিকে সরাসরি উত্তরণ নিশ্চিত করেন আনসারের এই তিরন্দাজ। এরপর এশিয়া কাপ আর্চারির ফাইনালে চীনের ঝেঙ্কি শিকে হারিয়ে তামার পদকটা সোনায় বদলে নেন সানা। এবার মেলে দলীয় সাফল্যও। রিকার্ভ দলগত পুরুষ ইভেন্টের ফাইনাল হারলেও রুপা জেতেন সানা, হাকিম আহমেদ রুবেল ও তামিমুল ইসলামরা।
রিকার্ভ দলের সাফল্যের পাশে কম্পাউন্ড ইভেন্টের আর্চাররা এ সময়ে ছিলেন ম্রিয়মাণ। তবে বছর শেষের এসএ গেমসে যেন ঘুম ভাঙে গোটা আর্চারি দলের। ১০ ইভেন্টের দশটিতেই সোনা জিতে অনন্য এক কীর্তিই গড়ে বাংলাদেশ আর্চারি দল। তবে টুর্নামেন্টে ভারতীয় দল নিষেধাজ্ঞার খড়গে খেলতে পারেনি, সেটা হলে হয়তো সোনার সংখ্যাও কমত বেশ! তবে আর্চারির এমন নৈপুণ্যের পাশাপাশি তায়াকোয়ান্দো, ফেন্সিং, কারাতে ও ভারোত্তোলন আর ক্রিকেটে পাওয়া সাতটি সোনায় দক্ষিণ এশীয় শ্রেষ্ঠত্বের আসরে নিজেদের সেরা সাফল্য পায় বাংলাদেশ।
তবে এমন সাফল্যের পিঠে ব্যর্থতাও ছিল ঢের। শুটিং সাম্প্রতিক সময়ে নিম্নগামী পারফরম্যান্সের গ্রাফ ধরে রেখে এসএ গেমসে ব্যর্থতা উপহার দেয় বাংলাদেশকে। একই পথে হেঁটে ব্যর্থতার বিস্বাদ নিয়েছে সাঁতারও। অন্যান্য ডিসিপ্লিনও সোনা জিততে ব্যর্থ না হলে হয়তো সেরা তিনে থেকেও শেষ করতে পারত বাংলাদেশ।
হকিতে চলতি বছর নবনির্বাচিত কর্তা ব্যক্তিরা বেশ আশা নিয়ে ক্ষমতায় এলেও ফলাফলটা ছিল শূন্যই। চলতি বছরে কোনো প্রিমিয়ার লিগ অনুষ্ঠিত হয়নি। এতদিন খেলোয়াড়রা লিগ নিয়ে সরব থাকলেও চলতি বছরে এটাও মিলিয়ে গেছে। মুদ্রার উলটোপিঠে কিছু আশাবাদও সৃষ্টি করেছে হকি।
চলতি বছরেই ইনডোর হকি পথচলা শুরু করেছে। এশিয়ান ইনডোর হকিতে প্রথম বারেই সপ্তম হয়ে শেষ করা বাংলাদেশ প্রশংসাও কুড়িয়েছে বেশ। নারী হকিও পথচলা শুরু করেছে বিদায়ি বছরেই। এএইচএফ অনূর্ধ্ব ২১ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে আবির্ভাবেই শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ দল।
