ভালো কিছুর চেষ্টায় মুস্তাফিজ

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:৪৯

বঙ্গবন্ধু বিপিএলের শুরুতে তার বোলিং দেখে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন জাতীয় দলের নির্বাচকরা। কিন্তু বোলারের নাম মুস্তাফিজুর রহমান বলেই কি না, পাশাপাশি এই তরুণ দ্রুতই ছন্দে ফিরবেন বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন নির্বাচকরা।

নান্নু-হাবিবুলদের আশাবাদ বৃথা যায়নি। টুর্নামেন্টের মাঝপথেই স্বরূপে দেখা গেল মুস্তাফিজকে। ধীরে ধীরে ছন্দটা ফিরে পাচ্ছেন। গতকাল যেমন সিলেট থান্ডারের বিপক্ষে রীতিমতো ক্ষুরধার ছিল তার বোলিং। নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন, উইকেট নিয়েছেন এবং কৃপন বোলিং করেছেন। গতকাল সিলেটের বিপক্ষে রংপুর রেঞ্জার্সের ৭ উইকেটের জয়টার ভিত গড়েছেন মুস্তাফিজই।

বল হাতে ৪ ওভার বোলিং করে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। তার বোলিংয়ের কারণেই সিলেটের স্কোরটা বড়ো হয়নি। ইনিংসের শুরুতে পাওয়ার প্লে’ তে বোলিং করেছেন। পরে ইনিংসের মাঝে ও শেষে বোলিং করেছেন কাটার মাস্টার খ্যাত এই পেসার।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বোলিং করে ১ রান দেন মুস্তাফিজ। ১১তম ওভারে এসে ৬ রান দিয়েছেন। ১৭তম ওভারের প্রথম বলেই ফেরান সিলেটের হয়ে সর্বোচ্চ ৬২ রান করা মিঠুনকে। সঙ্গে ২ রান দেন। ইনিংসের শেষ ওভারে প্রথম ও দ্বিতীয় বলে নাঈম হাসান, সোহাগ গাজীকে নিজের শিকার বানান মুস্তাফিজ। খরচ করেছেন মাত্র ২ রান।

ম্যাচ শেষে অবশ্য সংবাদ সম্মেলনে আসেননি এবার বিপিএলে প্রথমবার ম্যাচ সেরা হওয়া এই বাঁহাতি পেসার। পরে মুঠোফোনে জানিয়েছেন, বোলিংয়ে ছন্দে ফিরতে চেষ্টা করছেন তিনি। ১-২ ম্যাচ নয় ধারাবাহিকভাবে ভালো করতে চান।

গতকাল নিজের বোলিং নিয়ে মুস্তাফিজ বলেছেন, ‘ভালো হচ্ছে। চেষ্টা করছি। চেষ্টা করছি ভালো কিছু করার। ২ ম্যাচ ধরে ভালো হচ্ছে। ১-২ ম্যাচ দিয়ে তো হবে না। ধারাবাহিকভাবে ভালো করতে হবে। সব সময় চেষ্টা করি, আরো কীভাবে ভালো করা যায়। আমি সেই চেষ্টাই করছি।’

যদিও তার বিপিএলটা শুরু হয়েছিল বেদম প্রহার হজম করে। মুস্তাফিজের চার বলে চার ছক্কা মেরেছিলেন কুমিল্লার শানাকা। ৩৭ রানে পেয়েছিলেন ২ উইকেট। পরের ম্যাচে চট্টগ্রামের বিপক্ষে ২১ রান দিয়ে উইকেট শূন্য। চার ম্যাচে চার উইকেট ছিল তার দখলে। মুস্তাফিজের বল হাতে ছন্দে ফেরার শুরুটা চট্টগ্রামের বিপক্ষে গত ২১ ডিসেম্বর। ২৩ রানে নেন ২ উইকেট। তার পর দুই ম্যাচে তিনটি করে ৬টি উইকেট নেন। খুলনার বিরুদ্ধে ২৮ রানে তিন উইকেটে পর গতকাল ম্যাচজয়ী বোলিং করেন তিনি। সাত ম্যাচে মুস্তাফিজের ঝুলিতে এখন ১২ উইকেট। শেষ তিন ম্যাচেই এসেছে ৮ উইকেট। এখানেই স্পষ্ট এই পেসারের স্বরূপে ফেরার ছবিটা।

অবশ্য টুর্নামেন্টের শুরু থেকে একটু খরুচে থাকলেও মুস্তাফিজের বোলিংয়ে খুব চিন্তিত ছিল না জাতীয় দলের টিম ম্যানেজমেন্ট। রংপুরের তাঁবুতেই আছেন জাতীয় দলের কম্পিউটার অ্যানালিস্ট শ্রী চন্দ্রশেখরন। গত রবিবার এক আড্ডায় তিনি বলছিলেন, যাই হোক মুস্তাফিজের বোলিং তুষ্ট তিনি। ধীরে ধীরে উন্নতি করছেন এই পেসার। পারফরম্যান্স যাই হোক, মানসিকভাবে ঠিক থাকছেন মুস্তাফিজ। বোলিংয়ে ভালো করার চেষ্টা করছেন। ভালো কিছুতে খুব উদ্বেলিত বা রান দিলে মুসড়ে পড়ছেন না। যা আরো পরিণত করে তুলছে ২৪ বছর বয়সি এই তরুণকে।