আমাদের নিত্যদিনের খাবারের মেনুতে প্রায়ই থাকে মুরগির মাংস। বিয়ে, সুন্নতে খাত্না, চাইনিজ, ফাস্টফুড রেস্টুরেন্টে খাবার তৈরিতে মুরগির মাংস অন্যতম প্রধান উপাদান। কিন্তু সেই মাংস যদি হয় মরা মুরগির তাহলে তা কেউই খাবে না। কিন্তু আমাদের অগোচরে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, ফাস্টফুডের দোকান, হোটেল এবং ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে মরা মুরগির মাংস দিয়েই তৈরি হচ্ছে প্রিয় সব খাবার।
গতকাল সোমবার দুপুরে নগরীর গলাচিপা এলাকায় সুগন্ধা বেকারির পেছনে ময়লার স্তূপ থেকে অনু দাস নামে এক ব্যক্তি মৃত মুরগির চামড়া ছাড়ানোর সময় গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে। এসময় জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, পেশায় সে একজন ডোম। কালীরবাজার, দিগ্ববাবুর বাজার, বউবাজারসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ফেলে দেওয়া মরা মুরগি একত্রিত করে গলাচিপার ঐ ময়লার স্তূপে নিয়ে আসে। সেখানে বসেই সে ঐসব মুরগির চামড়া ছাড়িয়ে নগরীর বিভিন্ন হোটেল ও ভ্রাম্যমাণ দোকানে বিক্রি করে। তার সঙ্গে জব্বার, সুমনসহ আরো সাত/আট জনের একটি সিন্ডিকেট কাজ করে আসছে। সে জানায়, প্রায় প্রতিদিনই তারা এখানে মরা মুরগি নিয়ে আসে এবং বিভিন্ন খাবার হোটেল ও রেস্টুরেন্টে কম দামে বিক্রি করে। পরবর্তীতে খবর পেয়ে সদর এসিল্যান্ড আজিজুর রহমান ও সিদ্ধিরগঞ্জ এসিল্যান্ড রুমানা আক্তার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এসময় অনু দাসের দেওয়া তথ্যমতে সমবায় মার্কেটের পেছনে মক্কা মদিনা স্টোর ও মক্কা মদিনা খাবার হোটেলে অভিযান পরিচালনা করে। মক্কা মদিনা স্টোরের মালিক আব্দুল মজিদ স্বীকার করেন যে, এর আগে তিনি অনু দাসসহ আরো কয়েকজনের কাছ থেকে মরা মুরগি কিনেছিলেন।
এজন্য তাকে নিরাপদ খাদ্য আইন ও ভোক্তা অধিকার আইনে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১ মাস জেল দেওয়া হয়। পাশের হোটেল মক্কা মদিনার মালিক আব্দুল আজিজকে ভোক্তা অধিকার আইনে অস্বাস্থ্যকর ও ময়লা স্থানে খাবার রাখা ও পরিবেশনের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। অপরদিকে মরা মুরগি বিক্রয়কারী অনু দাসকে ভোক্তা অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য আইনে ১ বছরের সাজা প্রদান করা হয়।
