ফরিদা পারভীনের সংগীতজীবনের ৫০ বছর

লালনের মহত্বাণীর পথ ধরেই আমার সংগীত ভুবনে আসা

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:৫৪

 ‘সত্য বল সুপথে চল’—লালনের এই মহত্বাণী ও পথ ধরেই সংগীত ভুবনে আমার প্রবেশ। সেই বাণী ও পথকে বিশ্বাস করি এবং সেই পথ ধরেই আমি এ পর্যন্ত চলছি। লালন আমার গুরু, লালন আমার সব... লালনকন্যা খ্যাত শিল্পী ফরিদা পারভীনের সংগীতজীবনের ৫০ বছর পূর্তিতে এভাবে তিনি তার লালনভক্তির কথা জানান। শিল্পী তার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে আরো বলেন, এ রকম একটি আয়োজনের মাধ্যমে আমাকে সম্মান জানানোর জন্য আমি অভিভূত এবং কৃতজ্ঞ, একটু আবেগাপ্লুতও বটে। সংগীতজীবনের ৫০ বছর পূর্তিতে আমার মনে হচ্ছে, আর বোধহয় বেশি দিন নেই...।  গতকাল সোমবার শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে শিল্পী ফরিদা পারভীনের সংগীতজীবনের ৫০ বছর পূর্তিতে একক সংগীতসন্ধ্যার আয়োজন করে ‘লালন রিসার্চ অ্যান্ড কালচার ফাউন্ডেশন। অনুষ্ঠানে লালন গানের পাশাপাশি শিল্পী জনপ্রিয় বেশ কিছু আধুনিক ও দেশাত্মবোধক গানও পরিবেশন করেন।

‘এই পদ্মা এই মেঘনা এই যমুনা’ গানটির পরিবেশনার মধ্য দিয়েই সুরের ঝাঁপি খোলেন লালনসংগীতের জীবন্ত এই কিংবদন্তি। এরপর একে একে তিনি গেয়ে শোনান ‘তোমরা ভুলেই গেছ মল্লিকাদের নাম, নিন্দার কাঁটা যদি না বিন্দিল গায়ে, পারে লয়ে যাও আমায়, পারে কে যাবি নবির নৌকাতে আয়, খাঁচার ভিতর অচিন পাখি, যেখানে সাঁইয়ের বারামখানা, বাড়ির পাশে আরশিনগরসহ প্রায় ২০টি গান।

ভাববাদী ও তাত্ত্বিক বাণীর সুরে মিলনায়তন জুড়ে লালনকে মূর্ত করে তোলেন ফরিদা পারভীন। এর আগে শিল্পীকে সংবর্ধনা জানান সংগঠনটি। এ পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর। ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক মুচকুন্দ দুবের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগীতজ্ঞ আজাদ রহমান ও লালন গবেষক অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল করিম। প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের সভাপতি লালন গবেষক ড. আবু ইসহাক হোসেন। সংগীতজীবনের ৫০ বছর পূর্তিতে শিল্পীর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দিয়ে শিল্পীকে সম্মিলিতভাবে সংবর্ধনা জানান অনুষ্ঠানের অতিথিরা।