বিএনপির এমপিদের সংসদ থেকে পদত্যাগের আহ্বান ২০ দলীয় জোটের

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:৫৬

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির এমপিদের সংসদ থেকে পদত্যাগ করে রাজপথের আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ২০ দলীয় জোট। জোটের নেতারা বলেছেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তির দিনটিকে একদিকে আমরা গণতন্ত্র হত্যা ও ভোটাধিকার হরণ দিবস হিসেবে পালন করছি। অন্যদিকে ধানের শীষের এমপিরা সংসদে রয়েছেন। এমন দ্বিমুখী আচরণ মানুষ ভালোভাবে নেবে না।

গতকাল সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে ২০ দলীয় জোটের উদ্যোগে আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন জোটের নেতারা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ২০ দলের সমন্বয়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ২০ দলীয় জোটের নেতারা এখানে জোরদার আন্দোলনের কথা বলেছেন। আমরাও মনে করি, সংকট উত্তোরণে জোরদার আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। সবাই মিলে সেই আন্দোলনের রণকৌশল ঠিক করতে হবে। আমরা শুধু কর্মসূচি দিতে চাই না, সেটা বাস্তবায়নও করতে চাই।

২০ দলীয় জোট নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, লড়াইয়ের ময়দানে কে কতটুকু সাহসিকতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিতে পারবেন—সেটাই বড়ো কথা। শুধু বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ৩০ ডিসেম্বর দেশে কোনো ভোট হয়নি, তার আগের রাতে জনগণের ভোট ডাকাতি করা হয়েছে। জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে আওয়ামী লীগ আজকে নির্বাচনের বর্ষপূর্তির দিনটিকে গণতন্ত্রের বিজয় দিবস হিসেবে পালন করছে। একে আমরা ধিক্কার ও নিন্দা জানাই। আমরা মনে করি, ঐদিন গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে।

জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের মাওলানা মহিউদ্দিন ইকরাম বলেন, রাজপথে না নামতে পারলে কিছু হবে না। এজন্য আমাদের ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। রাজপথে নামতে হবে।

এলডিপির একাংশের সদস্য সচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, আমরা একদিকে একাদশ সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তির দিনটিকে গণতন্ত্র হত্যা ও কালো দিবস বলছি, আবার আমাদের এমপিরা সংসদে রয়েছেন। তারা সংসদে থাকেন কেমন করে? আহ্বান জানাবো, তারা যেন সংসদ থেকে অবিলম্বে পদত্যাগ করে রাজপথের আন্দোলনে শামিল হন।

নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে ও লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদ?া, ন্যাপ ভাসানীর সভাপতি অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, জাগপার একাংশের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুত্ফর রহমান, ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল করিম, কল্যাণ পার্টির সহসভাপতি মাহমুদ খান, এলডিপির একাংশের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, পিপলস লীগের মহাসচিব সৈয়দ মাহবুব হোসেন প্রমুখ।