মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন প্রার্থীরা। কিন্তু অনেকটা নির্বিকার নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের সামনে হরহামেশা আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে। যদিও আচরণবিধি লঙ্ঘন ঠেকাতে এরই মধ্যে দুই সিটির নির্বাচনী এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার মনোনয়ন দাখিলের শেষদিনে বেশির ভাগ প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিবেন। নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন আচরণবিধি লঙ্ঘনের আশঙ্কা করছেন। তারা বলছেন, কমিশন শুরুতেই আচরণবিধি লঙ্ঘন ঠেকাতে ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যাবে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ইটিআই ভবনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ও এর বাইরে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার সময় আরচণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘনের এই চিত্র দেখা যায়। ১২টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ডিএনসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে যান ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী মো. সফিউল্লাহ। সঙ্গে ছিল মোটরসাইকেল ও গাড়ি বহর। শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে তিনি এসেছিলেন মনোনয়নপত্র জমা দিতে। সফিউল্লাহ কাছে দাবি করেন, এসব লোকজন কারা তিনি জানেন না। এরা তার সঙ্গে আসেননি। তিনি আচরণবিধি মেনে পাঁচ জনকে সঙ্গে নিয়েই মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসেছেন। এরপর দুপুরে ৮-১০টি পিকআপ, কয়েকটি বাস, গাড়ি ও মোটরসাইকেল বহর নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসেন উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. জহির আহমেদ।
উত্তরের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ফরিদুর রহমান ইরানের বড়োভাই জাবেদুর রহমান খান দুপুর ৩টার দিকে পাঁচ জনের বেশি লোকজন নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাবেদুর রহমান বলেন, ‘আমরা পাঁচ জনই এসেছি। বাকিরা কারা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি উনাদের চিনি না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সকাল থেকেই কিছু প্রার্থী পাঁচ জনের বেশি লোকজন নিয়ে উত্তর সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসে। এছাড়া বিকালে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের বাইরে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রার্থী ও তাদের প্রতিনিধিরা জমায়েত হয় বা শো-ডাউন করে।
এ বিষয়ে উত্তরের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাশেম বলেন, আচরণবিধি ভেঙে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার বিষয়টি আমাদের চোখে পড়েনি। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা কার্যালয়ে পাঁচ জনের বেশি লোক প্রবেশ করতে দেবে না। আমার বিশ্বাস, আসবে না।
সিটি করপোরেশন নির্বাচন আচরণবিধি মালার ১১ নম্বর ধারায় বলা আছে, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিলের সময় কোনো প্রকার মিছিল কিংবা শো-ডাউন করা যাইবে না বা প্রার্থী পাঁচ জনের অধিক সমর্থক লইয়া মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবেন না।
বিধিমালার বিধান লঙ্খনের শাস্তি হিসেবে বিধিমালার ৩০ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী বা তাহার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচন-পূর্ব সময়ে এই বিধিমালার বিধান লঙ্ঘন করিলে অনধিক ৬ মাস কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
