পাবনা-৪: ধানের মাঠে হতাশা, নৌকার পালে হাওয়া

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৪:৫৮

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে আর মাত্র নয়দিন দূরে দেশ। অথচ পাবনা-৪ আসনে এখনো দল গোছানো হয়নি বিএনপির। উল্টো অভ্যান্তরীণ কোন্দল নিরসনের ব্যর্থ হয়ে ইশ্বরদী উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত ও পৌর কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। তাদের জোটসঙ্গী জামায়াতের নেতাকর্মীরাও নিষ্ক্রিয়। স্বাভাবিকভাবেই নৌকার পালে বইছে হাওয়া।

 

সর্বশেষ গত ১৯ ডিসেম্বর বিএনপির সহ-দফতার সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন জেলা কমিটিকে প্রেরিত একপত্রে ঈশ্বরদী উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত এবং পৌর কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করেছে। স্থগিত পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এস এম ফজলুর রহমান বিষয়টি অবগত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এই আসনে নির্বাচনকে ঘিরে মনোনয়ন নিয়ে পুরোনো ‘সিরাজ বনাম হাবিব দ্বন্দ্ব’ প্রকট আকার ধারণ করে। উপজেলা ও পৌর বিএনপির বেশীরভাগ তৃণমূল নেতা-কর্মী হাবিরের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেননি। এই অবস্থায় জেলার নেতারা দফায় দফায় হাবিবের সাথে সিরাজ সরদারের দেখা করানো এবং নির্বাচনী মাঠে নামার উদ্যোগ নিলেও সিরাজ বা তাঁর অনুসারী তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা নিষ্ক্রিয় থাকেন। ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরাও নিশ্চুপ। জোটের মনোনয়ন না পেয়ে জেলা আমীর আবু তালেব মন্ডল স্বতন্ত্র প্রার্থি হযে মনোনয়ন দাখিল করলেও শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহার করেন।

 

উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াতের একক প্রার্থী প্রায় ৩৮ হাজার ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন। এ কারণে তারা সব সময়েই এই আসনে মনোনয়ন নিয়ে দর কষাকষি করেন। জামায়াতের নেতা নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে জানান, সিরাজ-হাবিবের এই দ্বন্দ্বের কারণেই আমরা মনোনয়নের বিষয়ে একাট্টা ছিলাম। বিএনপি যথাযথ মূল্যায়ন না করায় তাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভও রযেছে। জেলা আমীর তালেব মণ্ডল বলেন, হাবিব সেন্ট্রালে বেশী অবস্থানের কারণে তৃণমূলের নেতা-কর্মী এবং জনগণের সাথে তাঁর মেলামেশা খুবই কম।

 

বিপরীতে নির্বাচনী মাঠ ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ এমপির নৌকার দখলে। কাক ডাকা ভোর হতে গভীর রাত অবধি প্রতিদিনই আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের শরীক দলের নেতা-কর্মীরা ভোটারের দ্বারে দ্বারে যেয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। পাশাপাশি শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হওয়ার টার্গেট নিয়ে এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন নেতা-কর্মীরা। এবারে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নৌকার পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ঈশ্বরদী ও আটেয়োড়িয়া উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিযার্স এসোসিয়েশন, ব্যবসায়ীদের সংগঠন শিল্প ও বণিক সমিতি, বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সোসাইটি, সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদসহ পেশাজীবি সংগঠনগুলো নৌকার পক্ষে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা মাঠে নেমেছেন।

 

ইত্তেফাক/এএম