ফুলকপি অতি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর শীতকালীন সবজি। এর উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Brassica Oleracea Var botrytis। ফুলকপিতে যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন এ, বি, সি, ক্যালসিয়াম, লৌহ, ফসফরাস, পটাশিয়াম এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইটোকেমিক্যালও থাকে।
সাইপ্রাস ও ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলসমূহ ফুলকপির উত্পত্তিস্থল। বর্তমানে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, এশিয়া ও আফ্রিকার বহু দেশে ফুলকপি চাষ হচ্ছে। ফুলকপি যা আমরা খাই তাকে ইংরেজিতে কার্ড বলে। এটি আসলে ফুলের পূর্বাবস্থা যাকে বাংলায় বলা হয় পুষ্পমঞ্জরী। এটি পরে ফুলে পরিণত হয়। খাদ্যউপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম ফুলকপিতে ২.৬ গ্রাম আমিষ, ৭.৫ গ্রাম শ্বেতসার, ০.১ গ্রাম চর্বি ও ২.০ গ্রাম আঁশ থাকে। এছাড়া প্রতি ১০০ গ্রাম ফুলকপিতে ১.০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন ‘এ’, ০.০২ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি-১ (থায়ামিন), ০.০৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি-২ (রাইবোফ্লেভিন), ৯১ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’, ৪১ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ১.৫ মিলিগ্রাম লৌহ, ০.৪১ মিলিগ্রাম জিংক ও ৪১ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি রয়েছে। আমাদের দেহের পুষ্টি সাধনে এসব পুষ্টি উপাদানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফুলকপি প্রধানত ব্যঞ্জন ও ভাজি হিসেবে রান্না করে খাওয়া হয়। এছাড়া স্যুপ তৈরি করে ও বড়া ভেজেও ফুলকপি খাওয়া হয়। ইদানীং সালাদ হিসবেও এর ব্যবহার শুরু হয়েছে। সালাদ হিসেবে ফুলকপি কাঁচা খাওয়া হয় বলে এতে বিদ্যমান পুষ্টি উপাদানসমূহ অবিকৃত অবস্থায় আমাদের দেহ কর্তৃক গৃহীত হয়।
সুতরাং দেহের পুষ্টি সাধন এবং দেহকে সুস্থ-সবল ও নিরোগ রাখার জন্য শিশু ও পূর্ণ বয়স্ক লোকের মৌসুমের সময় বেশি করে ফুলকপি ও অন্যান্য শাকসবজি খাওয়া একান্ত আবশ্যক।
