উচ্চশিক্ষায় সংকট কাম্য নহে

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২০, ২১:২২

বাংলাদেশে একসময় উচ্চশিক্ষায় সেশনজট অনেকটা অভিশাপের মতো বিদ্যমান ছিল। বর্তমানে সেশনজটের সেই দুষ্টচক্র হইতে বাহির হওয়া গিয়াছে। কিন্তু তাহার পরও কোথাও কোথাও থাকিয়া গিয়াছে তাহার কিছুটা রেশ। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু কিছু অনুষদে এখনো সেশনজট রহিয়াছে। বলা বাহুল্য, সেশনজটের কারণে একজন শিক্ষার্থীর জীবন হইতে মূল্যবান সময় নষ্ট হইয়া যায়। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের নির্দিষ্ট বয়সসীমা থাকায় অনেকেই বঞ্চিত হন চাকুরি হইতে অথবা অন্যদের তুলনায় কম সুযোগ পাইয়া থাকেন। তাই কোনোভাবেই সেশনজট কাম্য নহে। সেশনজটের মতোই সংকটে পড়িতে যাইতেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ কলেজগুলির হাজার হাজার শিক্ষার্থী। সেখানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এমবিএ (মাস্টার্স অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) চূড়ান্ত পর্বে নিয়মিত সেশনে কলেজে স্বল্প আসনের কারণে ভর্তি হইতে পারেন নাই কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক কলেজগুলিতে অনার্স পাশ করা শিক্ষার্থীর তুলনায় মাস্টার্সে আসনসংখ্যা অনেক কম হওয়ায় এই সংকটের সৃষ্টি হইয়াছে। অভিযোগ উঠিয়াছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বহীন নীতিনির্ধারকরা শিক্ষার্থীদের বিপর্যয়ের মুখে ঠেলিয়া দিয়াছেন। জানা গিয়াছে, বিশ্ববিদ্যালয় কলেজগুলির পক্ষ হইতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনকে এমবিএ চূড়ান্ত পর্বের আসন বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষরা আবেদন করিয়াছিলেন। কিন্তু সেখানে ইতিবাচক সাড়া মিলে নাই, সংকটের সুরাহা ঘটে নাই। এমনকি শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন পর্যন্ত করিয়াছেন। তাহার পরও কর্তৃপক্ষের নজর কেন সমস্যার দিকে পড়ে নাই তাহা বোধগম্য নহে। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা লইয়া বিদ্যমান এই সংকট নিরসনে কাহাকে দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করিতে হইবে তাহা লইয়া কর্তৃপক্ষের মধ্যে টানাপোড়েনের সৃষ্টি হইয়াছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ডিন যে তাহার দায়িত্ব পালন করেন নাই তাহা পরিষ্কার। সময়মতো শিক্ষার্থীদের আবেদনে সাড়া দিলে হয়তো এই সংকট এড়ানো যাইত। এই ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যও তাহাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হইয়াছেন। তাহাদের এই সম্মিলিত সিদ্ধান্তহীনতা যত দীর্ঘ হইবে সংকটও তত ঘনীভূত হইবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ এমনই একটি কলেজ হইল চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ। এখানে ২০১২-২০১৩ এবং ২০১৩-২০১৪ সেশনে ডিগ্রি পাস কোর্স উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন কলেজ হইতে এমবিএ শেষ পর্ব কোর্সে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করিয়াও ব্যর্থ হয়। সীমিত আসনের কারণে কলেজের নিয়মিত শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করিতে একটু বিলম্ব করিলেই ভর্তির সুযোগ হারাইয়াছেন। সেখানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা প্রত্যেকটি বিভাগে আরো ২৫০ আসন বাড়ানোর অনুরোধ জানাইয়াছেন। এই হাজার হাজার শিক্ষার্থী যদি নিয়মিত সেশনে ভর্তি হওয়া থেকে বঞ্চিত হয়, তাহলে তাহার দায় বর্তাইবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের উপরে। তাহাদের দায়িত্বহীনতার কারণে এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত্ অনিশ্চয়তায় পড়িয়া যাইবে। ফলে সংশ্লিষ্ট সকলকে যত দ্রুত সম্ভব সমস্যা সমাধানে সিদ্ধান্ত লইতে হইবে।