হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের তাড়াশ অংশের খালকুলা বাজার থেকে ১০ নম্বর ব্রিজ এলাকা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সংস্কার কাজের ধীরগতির কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রী ও চালকেরা। এটুকো সড়কে দিনরাতের প্রায় সারাক্ষণই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের একপাশ বন্ধ রেখে আরেক পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে। এমন রেশনিং পদ্ধতিতে সড়কের দুপাশে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ছে। আর যখন গাড়িগুলো ছাড়া হচ্ছে একেবারে ধীরগতিতে চলছে।
এদিকে মহাসড়কের একপাশের সংস্কার কাজের পানি ও বর্জ্য গড়ে পড়ছে আরেক পাশে। ফলে যানবাহান চলাচলের একপাশ রাস্তাও খানাখন্দে বেহাল। গর্তে ভরা সড়ক দিয়ে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করছে হেলেদুলে।
সাজেদুল ইসলাম, আব্দুর রহিম, ছানোয়ার হোসেন, তারিক হাসান, পরেশ চন্দ্রসহ বেশ কয়েকজন বাস-ট্রাকের চালক জানান, মেরামত কাজের ধীরগতির কারণে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোরসহ দক্ষিণ বঙ্গের যানবাহনে থাকা হাজার হাজার যাত্রী প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। আট/১০ কিলোমিটার রাস্তা পার হতে চার/পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক চালক ট্রাফিক আইন অমান্য করে ভারী যানবাহন নিয়েই পাশের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। ফলে দুর্ঘটনাও বেড়েই চলেছে। রাজশাহীগামী যাত্রী উম্মে ছাওদা জানান, তিনি নার্সিং পরীক্ষা দেওয়ার জন্য মাকে সঙ্গে নিয়ে তাড়াশের মহিষলুটি বাসস্ট্যান্ডে দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর গাড়িতে ওঠেন। তবে পরের তিন ঘণ্টায় দুই কিলোমিটারের বেশি যেতে পারেননি।
তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুল আলম বলেন, শুক্র ও শনিবার তুলনামূলক যানজট একটু নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সপ্তাহের বাকি দিনগুলোর প্রায় সারাক্ষণই ভয়াবহ যানজট লেগে থাকছে। এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম পি কে মহাসড়কের দুরবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, সংস্কার কাজ শেষ করতে আরো তিন/চার মাস লেগে যাবে।
