বছরব্যাপী দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে মন্দাভাব পরিলক্ষিত হলেও চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য হ্যান্ডলিং বেড়েছে। বন্দরের কনটেইনার ও খোলা পণ্য হ্যান্ডলিং এবং জাহাজ সংখ্যা বেড়েছে। কনটেইনার হ্যান্ডলিং বেড়েছে শতকরা ৬ দশমিক ৩ ভাগ। খোলা পণ্য হ্যান্ডলিং বেড়েছে ৭ দশমিক ৩ ভাগ এবং জাহাজ সংখ্যা বেড়েছে শতকরা ১ দশমিক ৬ ভাগ। হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্টসহ জনবলের দক্ষতা হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ বৃদ্ধির মূল কারণ বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল জুলফিকার আজিজ ইত্তেফাককে বলেন, কাজের আগ্রহ এবং টার্গেট ওরিয়েন্টেড মানসিকতা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সৃষ্টি হওয়ায় কাজের গতি বেড়েছে। এছাড়া কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের মূল যন্ত্রপাতি বিশেষ করে কি-গ্যানট্রিক্রেনসহ অন্যান্য ইকুইপমেন্ট বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে সংযোজিত হওয়ায় স্বল্প সময়ে অনেক বেশি হ্যান্ডলিং হয়েছে। ইয়ার্ড সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজ বৃদ্ধি পাওয়ায় হ্যান্ডলিং বেড়েছে। একইভাবে সপ্তাহের সাত দিনই ২৪ ঘণ্টা পণ্য হ্যান্ডলিং কার্যক্রম চলার সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করার ফলে দ্রুততার সঙ্গে পণ্যের জাহাজীকরণ কিংবা খালাস বেশি করা সম্ভব হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের গত এক বছরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং বৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৩ ভাগ হলেও ২০১৮ সালে বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ৮ ভাগ। বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে মোট পণ্যের হ্যান্ডলিং ভলিউম আগের বছরের তুলনায় কম হয়নি। বরং ভলিউম বা পণ্যের আয়তন বেশি হওয়ায় শতকরা হিসেবে কম মনে হচ্ছে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ৩০ লাখ ৮৮ হাজার ১৯৭টি। ২০১৮ সালে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল ২৯ লাখ ৩ হাজার ৯৯৬টি। চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং এবার বেড়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ২০০টি।
জানা যায়, সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে আরো বেশ কিছু ইকুইপমেন্ট সংযোজনের অপেক্ষায় রয়েছে। একইসঙ্গে বন্দরসংলগ্ন পতেঙ্গা এলাকায় পতেঙ্গা টার্মিনাল নির্মাণকাজ চলছে। বহু কাঙ্ক্ষিত বে-টার্মিনালের কাজ শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানা যায়।
প্রাথমিকপর্যায়ে বে-টার্মিনাল এলাকায় কনটেইনার ডেলিভারি ইয়ার্ড নির্মাণ হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার নামানোর পর সরাসরি বে-টার্মিনালের ইয়ার্ডে চলে যাবে। উক্ত স্থান থেকে আমদানিকারকগণ তাদের কনটেইনার বা পণ্য খালাস নেবেন। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি এলাকায় কোনো কনটেইনার থাকবে না। এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং-প্রক্রিয়া দ্রুত হবে এবং বন্দরের সক্ষমতা অনেক বেড়ে যাবে। অন্যদিকে ডেলিভারি ইয়ার্ড বন্দরের বাইরে বে-টার্মিনাল এলাকায় হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিনের মতো চার-পাঁচ হাজার ট্রাক, লরি, কাভার্ড ভ্যান যাওয়া-আসা করতে হবে না। এর মধ্যে শহরের মধ্য দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।
