ইসলামের কল্যাণে আওয়ামী লীগ সব করেছে: খালিদ

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৯:২৩

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, 'এদেশে ইসলাম ও আলেম-ওলামার জন্য কল্যাণকর সবকিছু আওয়ামী লীগই করেছে। অন্যরা ইসলাম নিয়ে রাজনীতি ও ব্যবসা করেছে।' বৃহস্পতিবার সকালে বোচাগঞ্জ উপজেলার আব্দুর রউফ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে জাতীয় ইমাম সমিতি বোচাগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে ইমাম ওলামা ও মুয়াজ্জিনদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

এ সময় তিনি বলেন, 'জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হাত দিয়ে এদেশে ইসলামী ফাউন্ডেশনসহ ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যাত্রা শুরু করে। কওমী সনদের স্বীকৃতি ও আরবী বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভবিষ্যতে সরকারিভাবে বেতন-ভাতা দেওয়ার বিষয়টি আওয়ামী লীগের বিবেচনাধীন। আওয়ামী লীগ আবারো রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলে আলেম-ওলামাদের সম্মান ও কল্যাণের বিষয়টি আরো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে।'

খালিদ বলেন, 'এই বাংলাদেশে ইসলামের প্রকৃত পরিচর্যাকারী ছিলেন বঙ্গবন্ধু। তারই যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামের উন্নয়ন করে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় কর্মকাণ্ড যথাযোগ্য মর্যাদায় আসীন করেছেন। শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বের নির্যাতিত মুসলিম উম্মাহর বলিষ্ঠ কণ্ঠের নাম শেখ হাসিনা। তিনি প্রত্যেক উপজেলা ও জেলায় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করার প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। যেখানে প্রকৃত ইসলামের ধারণাটা মানুষ পেতে পারে।'

ভোট প্রার্থনা করে খালিদ মাহমুদ বলেন, 'ইমামরা শুধু মসজিদের ইমাম না, তারা সমাজেরও ইমাম। কারণ সমাজের কোনো অনাচার ও অত্যাচারের মাঝে ইমামরা উপস্থিত হলে সেখানে অনাচার ও অত্যাচার বন্ধ হয়ে যায়। আপনাদের এক দিনের সিন্ধান্তে অনেক কিছু বদলে যেতে পারে। কাজেই আপনাদের একদিনের সিদ্ধান্ত আমাকে দিলে আমি পাঁচ বছর আপনাদের দেখে রাখবো। আমি চেষ্টা করি আপনাদের যথাযথ সম্মান দেওয়ার। আপনাদের অবস্থান থেকে যার যার প্রাপ্য সম্মান আমার কাছে আমানত হিসেবে থাকবে। আপনাদের ভালবাসা ও দোয়া থাকলে আগামী পাঁচ বছর আপনাদের  সেবক হয়ে কাজ করবো।'

সেতাবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আব্দুস সবুরের সভাপতিত্বে এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, উপজেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা আব্দুল জব্বার, সবেক সভাপতি আ স ম শামসুল বারী, কওমী মাদরাসা ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব হাফেজ ওয়াহেদ শাহ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা আব্দুল হক প্রমুখ।

এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফছার আলীসহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আরেক নির্বাচনী সভায় খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, 'বিএনপি এখন ভুল বকতে শুরু করেছে। তারা ভোট না চেয়ে সরকারকে দোষারোপ করছে। তারা  যেখানেই যাচ্ছে সেখানেই নেতাকর্মী ছাড়া কোনো ভোটার ভিড়ছে না। এখন তারা ভোটটাকে বানচাল করার জন্য নতুনভাবে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। তারা বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করছে এবং ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি, আতঙ্ক সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করছে।'

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় বিরল উপজেলার মঙ্গলপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আয়োজনে,  মোহনপুর মোড় ও হরিশচন্দ্রপুর স্কুল মাঠে পথ সভার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খালিদ বলেন, 'এই খালেদা, নিজামী, তারেক ও জেনারেলরা বিএনপির সময় কৃষকদের একটি বছর শান্তিতে থাকতে দেয় নাই। তারা সার, কীটনাশক, তেল দিতে পারে নাই। উপরন্তু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা মামলা করে তাদেরকে নাজেহাল করে রেখেছিলেন। আওয়ামী নেতাদের হত্যা করেছিলেন। তাই ২০০৮ সালে জনগণ বিপুল ভোটে তাদের পরাজিত করে ওই হামলা ও হত্যাকারীদের প্রতিশোধ নিয়েছিল বাংলার জনগণ।'

আরও পড়ুনঃ নারী-পুরুষ একসঙ্গে খাওয়া নাজায়েজ, দেওবন্দের ফতোয়া

এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিদুল ইসলাম চৌধুরী বাবুলসহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/নূহু