চট্টগ্রাম ওয়াসায় একের পর এক বড়ো বড়ো প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ অনিয়ন ও দুর্নীতিগুলো বন্ধ হচ্ছে না। বহাল তবিয়তে চলমান রয়েছে এসব অনিয়ম। মাসের পর মাস পানি না পেয়ে গ্রাহকদের বিল পরিশোধন করতে হচ্ছে। গ্রাহকদের অনুমান নির্ভর বিল ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পানির সরবরাহ লাইনে স্থাপিত মিটারে নানা সমস্যা। এতে পানির সঠিক হিসাব বা বিল পাওয়া যাচ্ছে না। এসব অনিয়ম দীর্ঘদিন যাবত্ চললেও কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় বন্ধ হচ্ছে না।
চট্টগ্রাম ওয়াসায় রাজস্ব ঘিরে যত অনিয়ম। রাজস্ব বিভাগের প্রধান তিন কর্মকর্তা পদোন্নতি নিয়ে সম্প্রতি বদলি হয়ে গেছে। তারা হচ্ছে—উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল আলম চৌধুরী, বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক পীযূষ দত্ত ও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মাহামুদুল হক। এর ফলে রাজস্ব বিভাগের দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম ওয়াসায় অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে ইতিপূর্বে একাধিক কমিটিও হয়েছে। যাদের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে তাদের লঘু শাস্তির কারণে দুর্নীতিবাজ আরো বেপরোয়া হয়েছে। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি চিহূিত করতে কয়েক মাস আগে ওয়াসা পরিচালনা বোর্ড সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছে। কিন্তু কমিটি নিয়ে সমস্যা। এর মধ্যে কমিটির সদস্য ওয়াসার তিন জন কর্মকর্তা বদলি হয়ে গেছে।
অনিয়ম চিহূিত করতে গঠিত কমিটির প্রধান ও ওয়াসা পরিচালনা বোর্ডের সদস্য জাফর আহমেদ সাদেক ইত্তেফাককে বলেন, আমরা কিছু অনিয়ম চিহূিত করেছি। উত্পাদন ও সরবরাহ লাইনে স্থাপিত মিটারে সমস্যা রয়েছে। গ্রাহকদের গড় বিল দেওয়া হচ্ছে। পরিদর্শকরা অন্যলোক দিয়ে রিডিং সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। পানির অপচয় বন্ধে জোনভিত্তিক মিটার স্থাপন করতে হবে। প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে সমস্যা আর থাকবে না। আমাদের প্রস্তাবটি আগামী বোর্ড সভায় উপস্থাপন করব।’
জানা যায়, ওয়াসায় বর্তমানে তিনটি পানিশোধনাগার ও গভীর নলকূপ থেকে পানি সরবরাহ দিচ্ছে। ওয়াসার পানিশোধনাগারগুলোতে উত্পাদন পরিমাপের মিটার রয়েছে। কিন্তু শোধনাগারগুলোর পানি উত্পাদন রেকর্ড নিয়ে হিসাবে গড়মিলের অভিযোগ উঠেছে। রাঙ্গুনিয়ায় অবস্থিত শেখ হাসিনা পানিশোধনাগারে উত্পাদিত পানি পাইপলাইনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম শহরের নাসিরাবাদ এলাকায় নির্মিত রিজার্ভে এনে নগরীতে সরবরাহ দেওয়া হয়। রিজার্ভেও পানি পরিমাপের মিটার রয়েছে। মদুনাঘাট পানিশোধনাগারের পানি কালুরঘাট বুস্টার থেকে নগরীতে সরবরাহ দেওয়া হয়। এখানেও পানি পরিমাপের মিটার রয়েছে। মোহরা পানিশোধনাগারের পানি সরাসরি নগরীতে সরবরাহ দেওয়া হয়। ওয়াসার কর্মকর্তারা জানান, পানির উত্পাদন খরচ অনেক বেড়েছে। ভর্তুকি দিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে পানি সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু শোধনাগারগুলোতে যে পরিমাণ পানি উত্পাদনের হিসাব দেখানো হচ্ছে তার সঙ্গে রিজার্ভ থেকে সরবরাহকৃত পানি হিসাবে বিরাট পার্থক্য দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার বোর্ড সভার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী এস এম নজরুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, কমিটিকে কিছু সময়ও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন এমডিকে জমা দিবেন। তিনি এটি বোর্ড সভায় উত্থাপন করবেন। আগামী ১১ জানুয়ারি বোর্ড সভা ডাকা হয়েছে।’
