দিরাইয়ে হাওর রক্ষা বাঁধের পিআইসি গঠনে নানা অনিয়মের কারণে কাজ শুরুর নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো সব প্রকল্পে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি। এতে হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ সম্পন্ন হওয়া নিয়ে কৃষকের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দিরাই উপজেলায় চলতি বছর উপজেলার ইরি-বোরো ফসল রক্ষার জন্য ৯৮টি হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের মধ্যে জেলা হাওর রক্ষা কমিটি ৯৪টি প্রকল্পের অনুমোদন প্রদান করেছে। এর জন্য সরকার ১৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা বরাদ্ধ করেছে। এ পর্যন্ত উপজেলায় মাত্র ২০টি প্রকল্পে কাজ শুরু হয়েছে। বাকিগুলোতে এখনো কাজ শুরু হয়নি। উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এ বছর দিরাইয়ে ৯০ কিলোমিটার হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ভাঙ্গা বাঁধ নির্মাণ এবং নুতন এলাকায় বাঁধ নির্মাণ।
গত ১৮ ডিসেম্বর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা, কিন্তু আজ পর্যন্ত মাত্র ২০টি হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে। জানা যায়, অনেক জায়গায় কর্তৃপক্ষের মৌখিক নির্দেশে পিআইসি গঠন ছাড়াই কাজ শুরু হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী পিআইসি গঠন করার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।
দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজোয়ান খান বলেন, তার ইউনিয়নে ১০টি হাওর রক্ষা বাঁধের মধ্যে পাঁচটিতে কাজ শুরু হয়েছে। তবে কে কীভাবে পিআইসি গঠন করেছে, তা তিনি কিছুই জানেন না। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষের মৌখিক আদেশে এখানে কাজ শুরু হয়েছে। দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিবলী আহমেদ বেগ বলেন, তার ইউনিয়নে ২৭টি হাওয়র রক্ষা বাঁধের মধ্যে পাঁচটিতে কাজ শুরু হয়েছে। বাকিগুলোতে শিগিগরই কাজ শুরু হবে। তিনিও বলেন কর্তৃপক্ষের মৌখিক আদেশে কাজ শুরু হয়েছে।
উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দ্বিতীয় উপদেষ্টা উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী বলেন, দিরাই উপজেলায় হাওর রক্ষা বাঁধের পিআইসি গঠনে আনেক অনিয়মের কথা তিনি লোকমুখে শুনছেন। তিনি বলেন, গত ২ ডিসেম্বর তিনি উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের নোয়াগাঁওয়ে বাঁধ নিয়ে একটি গণশুনানি করেন। সেখানে পিআইসি গঠনে অনেক অনিয়মের কথা জানতে পারেন।
