পুঁজিবাজারের লেনদেনের ওপর কর হ্রাস করাসহ একগুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। পুঁজিবাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ব্যবস্থা, বাজারে অর্থের সরবরাহ বৃদ্ধি, রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির শেয়ার পুঁজিবাজারে আনা, টি-বন্ডের লেনদেন যথাশিগিগর চালুকরণ, বহুজাতিক কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে উদ্বুদ্ধ করা, অডিট রিপোর্টের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, পুঁজিবাজার উন্নয়নে আইসিবি ও অন্যান্য সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি ছাড়াও সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সমন্বয় কমিটি গঠন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। গতকাল শেরেবাংলা নগরে অর্থমন্ত্রীর দপ্তরে এসইসি ও ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করে এ দাবি উপস্থাপন করেন। বৈঠক শেষে ডিএসইর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবুল হাশেম সাংবাদিকদের বলেন, ২০২০ সাল মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে আমরা পুঁজিবাজারকেও সাজাতে চাই। এরজন্য একগুচ্ছ প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের একটি বড়ো বাধা হচ্ছে ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসতে চায় না। এজন্য পদক্ষেপ নেওয়া হলেও বাস্তবায়ন হয়নি। এ লক্ষ্যে সরকার পুঁজিবাজারে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির শেয়ার অফলোড করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে। এক্ষেত্রে সাধারণ বিমা ও জীবন বিমার মতো লাভজনক কোম্পানি ন্যূনতম ২০ শতাংশ শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জের অফলোডের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। টি-বন্ডের লেনদেন যথাশিগিগর চালু করা প্রয়োজন। ট্রেজারি বন্ডের লেনদেন স্টক এক্সচেঞ্জের প্লাটফরমে চালু করার ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা নিশ্চিতকরণ জরুরি। এ লক্ষ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় কমিটি কাজ করছে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনা চান তারা। তারা বলেন, গ্রামীণফোনের ও বিটিআরসি দ্বন্দ্বের কারণে বাজারে প্রভাব পড়ছে। বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।
প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ডিএসইর করপোরেট করহার ৩৫ শতাংশের পরিবর্তে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা প্রয়োজন। স্টক এক্সচেঞ্জের ট্রেকহোল্ডারদের কাছ থেকে ট্রেডের ওপর যে উেস কর আদায় করে তা ভারত, হংকংসহ অনেক দেশের চেয়ে বেশি। পুঁজিবাজারকে বিনিয়োগবান্ধব ও আকর্ষণীয় করে তুলতে এই করহার কমানোর আহ্বান জানান তারা।
পুঁজিবাজার উন্নয়নে আইসিবি ও অন্যান্য সংন্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে তারা বৈঠকে বলেন, আইসিবি প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল সেকেন্ডারি শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। বর্তমান বাজার মূলধন বিবেচনায় পুঁজিবাজারে যথার্থ সাপোর্ট নিশ্চিত করার জন্য এ প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি। তাছাড়া আইসিবির পাশাপাশি বিডিবিএলকেও সেকেন্ডারি শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনে সাপোর্ট প্রদানের স্বার্থে পর্যাপ্ত তবহিল সরবরাহ প্রয়োজন। বড়ো প্রকল্পে যেমন বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপন, এলএনজি টারমিনাল স্থাপনের মতো যেখানে বড়ো বিনিয়োগ রয়েছে তাদের পুঁজিবাজারে নিয়ে আসা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন নেতিবাচক অবস্থার কারণে বিনিয়োকারীদের বিনিয়োগ সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। তাই বাজারে অর্থের জোগান বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা, যা বাজারের গতিশীলতা বৃদ্ধি করবে।
এ প্রসঙ্গে বাজার মধ্যস্থতাকারীদের পক্ষ থেকে বাজারে অর্থের সরবরাহের বৃদ্ধির প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। বিষয়টি বাস্তবায়ন হলে বাজারে অর্থের জোগান বাড়বে এবং গতিশীলতা ইতিবাচক ধারায় যাবে।
প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি প্রতিনিধি ও পুঁজিবাজারের বিভিন্ন অংশীজন নিয়ে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সমন্বয় কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। এ কমিটি পুঁজিবাজারের উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।
ঋণ প্রস্তাবের বিশেষ বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারকে সহায়তা দেওয়ার জন্য মার্চেন্ট ব্যাংক এবং স্টক ডিলারদের স্বল্প সুদে সিকিউরড ঋণের ব্যবস্থা করা জরুরি। এ বিষয়ে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ চেয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে ডিএসইত একাত্মতা প্রকাশ করেছে।
