বিপিএলের অভিজ্ঞতা নিতে মুখিয়ে আমলা

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২০, ২১:০৯

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলতে চারবার বাংলাদেশে এসেছিলেন হাশিম আমলা। বাংলাদেশের মাটিতে পঞ্চমবার আমলা আসলেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) খেলতে। বঙ্গবন্ধু বিপিএলে খুলনা টাইগার্সের হয়ে খেলবেন সাবেক এই প্রোটিয়া ক্রিকেটার। ১৪ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা এই দক্ষিণ আফ্রিকান কিংবদন্তি ওপেনার এখন অবস্থান করছেন সিলেটে।

গতকাল সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে বাংলাদেশের প্রতি নিজের ভালো লাগা, বিপিএল খেলতে আসার রোমাঞ্চ, ধর্ম-ক্রিকেট, অবসর পরবর্তী ক্রিকেট নিয়েও কথা বলেছেন আমলা। ৩৬ বছর বয়সি এই ক্রিকেটারের বিপিএল অভিষেক হতে পারে আজই। সিলেটে আজ দিনের প্রথম ম্যাচে ঢাকা প্লাটুনের বিরুদ্ধে খেলবে তার দল খুলনা।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিকতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ ছিলেন আমলা। ওপেনার হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে লম্বা সময় সার্ভিস দিয়েছেন তিনি। এবার বিপিএলেও নিজের ব্যাটিং দক্ষতা মেলে ধরতে চান আমলা।

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের দুনিয়ায় বিপিএলেকে বেশ উঁচুতেই মূল্যায়ন করেছেন এই প্রোটিয়া ক্রিকেটার। গতকাল সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে আমলা বলেছেন, ‘বাংলাদেশে আসতে বরাবরই খুব ভালো লাগে। এ নিয়ে পঞ্চমবার আসলাম। সবসময় ভালো সময় কেটেছে, এখানকার আবহ ভালো। ক্রিকেটীয় সংস্কৃতি দুর্দান্ত, মাঠ সবসময়ই প্রাণবন্ত থাকে। এখানে আসতে আগ্রহী ছিলাম। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর মধ্যে বিপিএল অন্যতম। এটার আলাদা স্বাদ আছে। সেই অভিজ্ঞতা নেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছি আমি।’

গত কয়েক মাসে দুটি টি-১০ ক্রিকেট লিগে খেলেছেন আমলা। খুলনার ডাকে সাড়া দিয়ে চলে এসেছে প্রথমবার বিপিএল খেলতে। গতকাল বলেছেন, ‘অবসরের পর সময় ছিল অনেক। টি-টেন ক্রিকেট খেললাম। খুলনা টাইগার্সের সঙ্গে যোগাযোগ হলো—তারা জানতে চাইল আমাকে পাওয়া যাবে কি না। সৌভাগ্যবশত এখন সময়টা ফাঁকা ছিল, চলে এসেছি।’

২০১৯ বিশ্বকাপের পরই অবসর নিয়েছেন আমলা। বিশ্বকাপটাও ব্যাট হাতে খুব ভালো কাটেনি তার। তবে অবসর পরবর্তী জীবন বেশ উপভোগ করছেন তিনি। আমলা বলেছেন, ‘আমি উপভোগ করছি। জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ই রোমাঞ্চকর। যতটা সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছি, আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। আমি সে জন্য কৃতজ্ঞ। এখন আরেকটি অধ্যায়। বিপিএল খেলার সুযোগ পেয়েছি। এত বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যস্ততার কারণে সেভাবে সুযোগ হয়ে ওঠেনি। এবার সময় এসেছে এবং এখানে আসতে পেরে ভালো লাগছে।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেরা পারফরমারদের কাতারেই ছিল আমলার নাম। ক্রিকেটের পাশাপাশি ইসলাম ধর্মটাও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পালন করেছেন তিনি। তবে ক্রিকেট ও ধর্মকে মেলানো উচিত নয় বলে মনে করেন এই প্রোটিয়া ক্রিকেটার।

ক্রিকেটে নিজের সাফল্যের পেছনে ধর্মচর্চার ভূমিকা সম্পর্কে আমলা বলেছেন, ‘এই প্রশ্ন আমার অনেক অনেকবার শুনতে হয়েছে। ইসলামের মূল ভিত্তিগুলো খুব সাধারণ এবং আপনাদের প্রায় সবাই সেটি জানে। আমার ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। ব্যাখ্যা করাও কঠিন। অনেকেই জানতে চান ইসলাম কেমন, ক্রিকেটে ধর্ম কীভাবে সাহায্য করে। আমার কাছে প্রশ্নটি অদ্ভুত লাগে, কারণ সবাই নিজের জীবন সর্বোচ্চ পছন্দ করে। বাকি সবকিছু নিজের মতোই চলে। ক্রিকেটে সাহায্য করা বা না করার ব্যাপার এটি নয়।’

ক্রিকেটে সাহায্য হবে বিশ্বাসে ধর্মচর্চাকে কপটতাই মনে করেন আমলা। ধর্ম ক্রিকেটে সাহায্য করবে এমনটাও ভাবতেন না তিনি।