রহমতগঞ্জের তাক লাগানো ফাইনাল

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২০, ২১:১৪

রহমতগঞ্জের কর্মকর্তা, সমর্থকরা ঠোঁটে আঙ্গুল চেপে শীষ দিচ্ছিলেন, খেলার বাঁশি বাজাচ্ছিলেন। রেফারি জালাল উদ্দিন অতিরিক্ত চার মিনিট শেষ করেই শেষ বাঁশি বাজালেন। অমনি উল্লাসে ফেটে পড়ল মোহামেডানকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফেডারেশন কাপের ফাইনালে ওঠা রহমতগঞ্জের সমর্থকরা। ১৬ মিনিটে উজবেক ফুটবলার তুরায়েভ আকোবিরের দর্শনীয় গোলটি ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে তুলে দিল রহমতগঞ্জকে।  

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের মাঠে তখন হতাশ মোহামেডানের ফুটবলাররা বসে পড়েছেন। রহমতগঞ্জ ফুটবলাররা ফাইনালে ওঠার আনন্দে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে উল্লাসে ব্যস্ত। কোচ গোলাম জিলানীকে তুলে নিয়ে আনন্দ করছেন। এক কর্মকর্তা মাটিতে সেজদা দিলেন। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম তখন আনন্দ ও বিষাদে মাখামাখি।

নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটি এবারই প্রথম কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছে। ১৯৮২ সালে গড়া দলটি দেশের ফুটবলে অনেক চড়াই-উত্রাই পেরিয়ে এসেছে। ১৯৭৭ এ ঢাকার লিগে ট্রফি জয়ের কাছাকাছি গিয়েও রানার্সআপ হয়। সেই আক্ষেপ এখনো পোড়ায় রহমতগঞ্জকে।

পড়শি ফরাশগঞ্জ স্বাধীনতা কাপ ফুটবল জিতলেও ঘরের মাঠে রহমতগঞ্জের ট্রফি নেই। একবার নেপালের টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলেছিল। অথচ এই টুর্নামেন্টে রহমতগঞ্জের কোনো আশাই ছিল না। তিন সপ্তাহের অনুশীলনে লড়াইয়ে নেমে গ্রুপ পর্বে সাইফ স্পোর্টিং এবং শেখ জামালের বিপক্ষে ড্র করে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল।

আবাহনীর বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও ইনজুরি টাইমে বদলি ফুটবলার এনামুলের গোলে ৯০ মিনিট শেষ (১-১) করেছিল। এরপর অতিরিক্ত সময় শেষে টাইব্রেকে আবাহনীকে হারিয়ে রহমতগঞ্জ সেমিফাইনালে ওঠে। আবাহনীর পর কাল মোহামেডানকেও বিদায় করে দিল দলটি। মোহামেডান মতিঝিল হতে নিজেদের এসি বাসে চড়ে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আসে। রহমতগঞ্জের ফুটবলাররা পুরানো ঢাকা থেকে টেম্পুতে গাদাগাদি করে স্টেডিয়ামে আসেন। বাফুফে ভবনের টার্ফে অনুশীলন করে। সেই দলটি বড়ো সব ক্লাবকে টপকে এখন ফাইনালে। প্রতি ম্যাচেই ভালো খেলে আসছে রহমতগঞ্জ। কালও ভালো খেলেছে।   

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আসা কয়েকশত দর্শক দারুণ উপভোগ করেছে। শুরুতেই জমে ওঠে খেলাটি। তাজিক ফুটবলার আসরোরভ দারুণ এক ফ্রিকিক নিয়েছিলেন। নিশানা ঠিকই ছিল। সজাগ ছিলেন মোহামেডান গোলকিপার সুজন। শটের মতোই দর্শনীয় ছিল তার ফিরিয়ে দেওয়া। আসরোরাভ তাজিকিস্তানের হয়ে এখন বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দলেও রয়েছেন।

মোহামেডানের অধিনায়ক জাপানী ইউরী নাগাতা সুযোগ পেয়েও জালে শট নিতে পারেননি। ১৬ মিনিটেই সুযোগ কাজে লাগায় রহমতগঞ্জ। শাহেদুল আলমের ক্রসের বলটা এতো সুন্দরভাবে মাথা লাগিয়েছেন উজবেক ফরোয়ার্ড তুরায়েভ আকোবির, তা ছিল অবিশ্বাস্য (১-০)। অনেক সুযোগ পেয়েও গোলটি শোধ করতে পারেনি মোহামেডান। মোহামেডানের ভালো খেলার ধারাবাহিকতা দেখে সাবেক তারকা কায়সার হামিদ, জনি, সাব্বির, জোসী, ইলিয়াস, বাবলুরা খেলা দেখতে গেলেও প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।