নতুন বছরের ভাবনা

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৪২

আজ বছরের প্রথম দিন। আগামী দিনগুলো কেমন কাটবে বলে মনে করেন? জানতে চাওয়া হয়েছিল পাঠকদের কাছে। ইমেইল ও টেলিফোনে পাঠকের দেওয়া প্রতিক্রিয়া আজ প্রকাশ করা হলো

 

হে নবীন তুমি প্রস্তুত হও, কারণ তোমার মাঝে লুকিয়ে আছে আমার সোনার বাংলাদেশ। সোনার বাংলা খ্যাত  দেশটি ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ হওয়ার স্বপ্ন দেখছে; ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মাধ্যমে একটি উদ্ভাবনী দেশ হিসেবে বিশ্ব পরিমণ্ডলে পরিচিতি লাভ করতে যাচ্ছে। আমরা মুজিব সেনা; ১৭ মার্চ আমাদের বাংলার রূপকারের জন্মশতবার্ষিকী পালন হবে যথাযথ মর্যাদায়। নতুন বছর হিসাবে অতীতের যেসব ছোটোখাটো ভুল ছিল, তা শুধরানোর মাঝখান থেকে আমাদের শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। নতুন বছরে প্রত্যাশা হবে দুর্নীতিমুক্ত, মাদক-সন্ত্রাস, ধর্ষণসহ সমস্ত নির্যাতন বন্ধ হোক। এই প্রত্যাশা আমাদের সকলের।

ডা. মো. জামিল রহমান

গোপালপুর, টাঙ্গাইল

 

নতুন বছরের ভাবনা নতুন করে। পুরোনোকে ছিন্ন করে নতুনের আবির্ভাব। আগামী দিনগুলো হবে সবার জন্য সুখময়, শান্তিময়, সৌন্দর্যপূর্ণ ও অনাবীল আনন্দের দিন। পরিবার, ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র, সবার জন্য মঙ্গলময় হয়ে উঠুক এমনই প্রত্যাশা আজ।

রণী

রামচন্দ্রপুর, ঝিনাইদহ।

আমাদের ৫ হাজার বছরের গাঙ্গেয় বদ্বীপের চিরচেনা ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতির মধ্যে জারিসারি-ভাওয়াইয়া গান গেয়ে সুখ-দুঃখ, আন্দন-বেদনা, আবেগ-উচ্ছ্বাসের মধ্যেই অতিবাহিত হয়েছে বিগত বছর। মায়ের আদর, বোনের স্নেহ, গোয়ালভরা গরু, ঘোলাভরা ধান, পুকুরভরা মাছ, মাঠভরা ফসল, গাছভরা ফল—কিছুরই অভাব নেই আমাদের শষ্য-শ্যামল-সবুজে ঘেরা বাংলায়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে খ্যাত এই দেশে অতীতে বিভিন্ন সাম্রাজ্যবাদীরা এসে অবাধে লুণ্ঠন চালিয়ে আমাদের নিঃস্ব করতে চেয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই আমরা মাথা তুলে দাঁড়িয়েছি। এই অবিরাম চলাই জাতি হিসেবে আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিক—এই আমাদের নতুন বছরের প্রত্যাশা।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

চৌমুহনী, হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

আর কেউ যেন ধর্ষণের শিকার না হয়। ২০১৯ সালে ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৪১৩ জন নারী। এদের মধ্যে ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার শিকার হয়েছেন ৭৬ জন। ধর্ষণের হাত থেকে রেহাই পায়নি ছোট্ট শিশুটিও। মানুষ কতটা জঘন্য হলে এ কাজ করতে পারে! পত্রিকার পাতায় যখন দেখতে হয় পঞ্চম শেণির ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা, তখন অনেকটাই বাক্রুদ্ধ হয়ে পড়েছিলাম। এই শিশুটি কারো না কারো বোন, কারো মেয়ে। যেসব নরপশু এই নারকীয় অপরাধ করে যাচ্ছে, তাদের আইনের আওতাভুক্ত করা হলেও ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। তাই নতুন বছরে প্রত্যাশা, আর কারো মা-বোন যেন ধর্ষণের শিকার না হন। কোনো নরপশু এই অপরাধ করলে তাকে যেন শাস্তি দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়। 

মো. মমিন সরকার

শিক্ষার্থী, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

আগামী দিনগুলো ভালোর প্রত্যাশা করি, কিন্তু কীভাবে কাটবে তা তো মহান আল্লাহ জানেন। তবে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকুক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ থাকুক, কোচিং বাণিজ্য বন্ধ হোক। ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার লোভমুক্ত থাকুক, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি না হোক, রাজনীতিবিদেরা শান্ত থাকুক, সড়ক দুর্ঘটনা ও যানযটমুক্ত থাকুক, চিকিত্সকেরা অপ্রয়োজনীয় টেস্ট দেওয়া বন্ধ রাখুন, খাদ্যে ভেজালমুক্ত থাকুক, মাধকমুক্ত থাকুক, দেশ থেকে টাকা পাচার বন্ধ থাকুক, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ প্রবাসীদের সঙ্গে সদয় আচরণ করুন, ছোটো ও মাঝারি শিল্প বৃদ্ধি পাক, ব্যাংকের সুদের হার ৫ শতাংশ হোক, সব ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধি ও পারিবারিক বন্ধন অটুট থাকুক।

মো. ফিরোজ আহম্মেদ,

মিরপুর, সেকশন-৬, ঢাকা

শুরু হলো ২০২০ ইং নতুন বছর। অতীত/বর্তমান/ভবিষ্যত্ সার্বিক বিষয় মাথায় রেখে আগামী দিনের সাফল্য অগ্রযাত্রায় আমাদের ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রীয় এবং সমগ্র পৃথিবীর শান্তির লক্ষ্যে সবুজ-সুন্দর শান্তিময় বিশ্ব চাই। এই স্ল্লোগান হূদয়ে ধারণ করে সকল নেশা, দুর্নীতি, বিশৃঙ্খলামুক্ত অন্যায়, জঙ্গিমুক্ত, ক্ষমতার অবৈধ প্রভাবমুক্ত, বিশ্ব গভীর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। মানুষসহ সকল জীব, বন, বন্যপ্রাণী, প্রকৃতি যার বিচরণ ক্ষেত্র মুক্ত স্বাধীন পরিবেশে ভালো থাকুক।

মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক নাছিম

চান্দাই কোনা, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ

স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী দল হিসেবে বর্তমান সরকারকে গুম-খুন ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির মতো কলঙ্ক দূর করতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নিপীড়নের অবসান এবং জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা প্রদর্শন করতে হবে। সরকারের সহযোগী ছাত্রসংগঠন মূল দলের ছত্রছায়ায় নানা ধরনের অন্যায় ও অপকর্মে লিপ্ত হয়ে সমালোচিত এবং নাগরিক জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। আরো আবশ্যক বিগত কয়েক বছরে জি কে শামীম, সম্রাট ও তুফান সরকারের মতো সারা দেশে যে হাজার হাজার দুর্বৃত্ত সৃষ্টি হয়েছে, তাদের আইনের আওতায় এনে যথোপযুক্ত শাস্তি দেওয়া যেমন জরুরি, ঠিক একইভাবে দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য একটি জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টি এবং সর্বব্যাপী উদ্যোগ নেয়াও জরুরি।

মো. জিল্লুর রহমান

সতিশ সরকার রোড, গেন্ডারিয়া, ঢাকা।

একজন সমাজসচেতন মানুষ হিসেবে নতুন বছরের প্রত্যাশা—অসুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে সহমর্মিতার দৃষ্টিতে দেখব, আশপাশের মানুষকেও সমাজের অপপ্রচার সম্পর্কে সচেতন করে তুলব। আশা করি নিজ দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের মাধ্যমে এবং সক্রিয় সহযোগিতায় পরিবর্তন হবে সমাজের, রাষ্ট্রের। জীবন আসলেই সুন্দর একটা ব্যাপার। এই বেঁচে থাকা, এই পৃথিবীর রূপ-রস-গন্ধ উপভোগ করা, সুখে হাসা, দুঃখে কাঁদা—এ এক বিরাট অভিজ্ঞতা, অনির্বচনীয় অনুভূতি। খুব অল্প সময়ব্যাপী হওয়াটা জীবনের মূল সৌন্দর্য আবার প্রধান অসুবিধা। অসুবিধা তখনই, যদি এই অল্প সময়টা সঠিকভাবে ব্যয় না করি, ছোটখাটো ব্যাপার উপেক্ষা করে বিশাল সমস্যার তৈরি করি। আর এর বিপরীতটাতেই সৌন্দর্য। সবার জীবন সুন্দর হোক, আনন্দময় হোক—এই প্রত্যাশায় সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা।

অমিত বণিক

উত্তরা, ঢাকা।

আমাদের জীবনে এবারের খ্রিষ্টীয় নববর্ষ ২০২০ বহুমাত্রিক তাত্পর্য নিয়ে হাজির হয়েছে। নতুন বছরের প্রথম দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক আরো সুদৃঢ়। আলোর পথে, প্রগতির পথে আমাদের এগিয়ে চলা হোক আরো বেগবান। দেশে-বিদেশে সবার মধ্যে মেলবন্ধন গড়ে উঠুক। বিশ্বব্যাপী ধর্মীয় ও জাতিগত সব সহিংসতা বন্ধ হোক। সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হোক এবং গণতন্ত্র চলুক নিরবচ্ছিন্নভাবে।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

মুন্সীপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর

দেখতে দেখতে আরো একটি বছর শেষ হয়ে গেল। নতুন বছর এসে আমাদের দরজায় হাজির। নতুন বছর মানে নতুন স্বপ্ন, অন্যরকম উত্তেজনা। সবার মনে একটা নতুনত্বের জোয়ার বইবে এটাই স্বাভাবিক। সময় যেন দ্রুত গতিশীল হয়ে উঠছে। কেমন যেন মনে হচ্ছে, এই কদিন আগেই তো একটা বছর শুরু হয়েছিল! এত দ্রুত কীভাবে সময় আমাদের পেরিয়ে যাচ্ছে, তা যেন ঠিক বুঝে ওঠা যাচ্ছে না। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠছি! আবার অনেকেই সময়কে পেছনে ফেলে দিয়ে পূর্ণ উদ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে সামনের দিকে। নিজের প্রতি যার ভালোবাসা আছে, দায়বদ্ধতা আছে সমাজ ও দেশের প্রতি, যিনি কিছু দিতে চান পৃথিবীবাসীকে, সময় নামক ফ্রেমে তাকে আটকে রাখা সত্যিই কঠিন।

বিলকিছ আক্তার

হরিশ্বর, কাউনিয়া, রংপুর

বিদায় নিয়েছে আরেকটি বছর ২০১৯। বদলে গেলো ক্যালেন্ডার। পুরনো বছরের ব্যর্থতা ভুলে নতুন বছরে নতুন আশায় বুক বাঁধছেন সাধারণ মানুষ থেকে সব মহলের সবাই। ২০১৯ সালে ব্যাংক, রাজস্ব, রপ্তানি, টেলিযোগাযোগ, শেয়ারবাজারসহ বিভিন্ন খাতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন দিকসমূহ।

নতুন বছর ২০২০। আমাদের প্রত্যাশা বিগত বছরের সব ভুলত্রুটি শুধরিয়ে নিয়ে নতুন করে পথ চলা। এমনটাই আজ প্রত্যাশা।

মোঃ খায়রুল ইসলাম (ফুল)

আরাপপুর, ঝিনাইদহ

নতুন বছরে বাংলাদেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। নুতন বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার প্রত্যাশা বিভিন্ন  শ্রেণি পেশার মানুষের। বায়ুদূষণ বন্ধে প্রত্যাশা, যানজট, বাক স্বাধীনতায় প্রত্যাশা গণতন্ত্র চর্চার প্রত্যাশা, জবাবদিহিমূলক সরকারের প্রত্যাশা, আর এমন জবাবদিহিতামূলক সরকার পেতে হলে কোনো নাটক নয়, সত্যিকারের একটা নির্বাচন দরকার। যাতে বাস্তবে এ দেশের নাগরিক ভোট দিতে পারে।

সাইফুল ইসলাম তানভীর

বারিধারা, গুলশান, ঢাকা

বিগত বছরটি আজ অনেক স্মৃতিময় ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয়। এতে রয়েছে বেদনা, আনন্দও। রয়েছে হতাশার কিছু ঘটনাও। বছরের শেষে যেমন তুমুল বির্তকের জন্ম দেয় রাজাকারের তালিকা। যা প্রত্যাশা ছিল না। সারা বছরই কেটেছে অস্থিরতায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। বুয়েটের আবরাবকে পিটিয়ে মেরে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। অত্যন্ত দুঃখজনক যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভিপি নূরুকে নন-স্টপ পিটুনি। নতুন বছরে আমাদের প্রত্যাশা— এসবের শুদ্ধি ও স্বচ্ছতা ও সুন্দর জীবন চাই সবার। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রত্যাশা নয়। নতুন বছর হোক সবার প্রীতি ও ভালোবাসার—এই কামনা।

মো. মেজবাহউদ্দিন সেলিম

পাকার মাথা, ইব্রাহিমপুর, ঢাকা ক্যান্ট.

মিরপুর, ঢাকা।

নতুন বছরে আমাদের প্রত্যাশা অর্থনৈতিক, সামাজিক দুরবস্থার জন্য রাজনৈতিক দলসমূহকে স্থিরতা সৃষ্টি করা। সব জল্পনা-কল্পনা বাদ দিয়ে নতুন করে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা। বিরোধী দল যেই হোক না কেন সংসদে যাওয়া সংস্কৃতি তৈরি করা। যানজট মুক্তি ও দূষণমুক্ত নগরী তৈরি করা। মাদকমুক্ত দেশ তৈরির অঙ্গীকার। মানুষে মানুষে প্রীতি/সৌহার্দ্যপূর্ণ ভালোবাসা সৃষ্টি করা।

সুলতানা জামান

মানিকনগর, ঢাকা।

ইংরেজি নববর্ষ আমাদের বাঙালি জীবনে বাংলা নববর্ষের মতো ব্যাপক প্রভাব সৃষ্টি না করলেও নববর্ষ পালনের ব্যাপারে তরুণ সমাজ বিশেষভাবে আগ্রহী, আন্তর্জাতিকভাবে এই দিবসটিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। আমাদের আগামী দিনগুলো সুখময় করার জন্য এই দিনটিতে সবাই সমবেতভাবে একটি অঙ্গিকার এবং সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণে প্রত্যয়ন করে থাকে। আমাদের দেশটি বিভিন্ন বিষয়ে উন্নতির সঙ্গে প্রযুক্তিতে বিশেষভাবে সাফল্য অর্জন  করেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের এটাই সবচেয়ে বড়ো অবদান।

মাখরাজ খান

সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ।