নতুন বছরের প্রথম দিনে সিরিয়ায় সরকারি বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পাঁচ শিশুসহ কমপক্ষে নয়জন নিহত হয়েছে। বুধবার ইদলিবের একটি স্কুলে এ হামলা হয়। এই এলাকাটিকে বিদ্রোহীদের সর্বশেষ ঘাঁটি বলে মনে করা হয়। খবর এএফপি ও দ্য ন্যাশনালের
স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হোয়াইট হেলমেট বলেছে, নিহতদের মধ্যে পাঁচ শিশু ও দুই নারীও রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, হামলার সময় অনেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সেখানে ছিলেন। পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলছে, সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশের বিদ্রোহী অধ্যুষিত সারমেন শহরে ঐ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে আরো ১৬ জন আহত হয়েছে। এএফপির এক সংবাদদাতা জানিয়েছেন, হামলায় ব্যবহূত ক্ষেপণাস্ত্রটি কয়েক মিটার লম্বা। পার্শ্ববর্তী একটি জলপাই বাগানে এর ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। জাতিসংঘের এক হিসাব অনুযায়ী, গত ১২ থেকে ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সহিংসতার ঘটনায় দুই লাখ ৮৪ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর থেকেই মানুষ জীবন বাঁচাতে মসজিদ, গ্যারেজ, বিয়ের হল ও বিভিন্ন স্কুলে আশ্রয় নিয়ে থাকে। কিন্তু সেই স্থানগুলোও হামলা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। শাসক গোষ্ঠীর মিত্র রাশিয়া গত আগস্টে ইদলিবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করে। কিন্তু তা সত্ত্বেও সেখানে হামলা এখন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঐ মাসে সরকারি বাহিনী ও রাশিয়ার মুহুর্মুহ বোমা হামলায় এক হাজারেরও বেশি বেসামরিক লোক নিহত হয়।
সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকে তিন লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ২০১১ সাল থেকেই দেশটিতে সহিংসতা চলছে। ২০১৯ সালে ১ হাজার শিশুসহ ১১ হাজার ২১৫ জন নিহত হয়েছে।
