চট্টগ্রামে মোটরবাইকের বেপরোয়া গতিতে বাড়ছে দুর্ঘটনা

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২০, ২২:১৫

চট্টগ্রাম মহানগরীর রাস্তায় বেপরোয়া গতির মোটরবাইকে দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। সেইসঙ্গে ঘটছে অস্বাভাবিক হারে চালক ও সহ-আরোহীর হতাহতের ঘটনা। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসেই মহানগরীসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন পাঁচ জন। গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত দুই জন।

সম্প্রতি সংঘটিত বেশ কিছু ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটা সত্ত্বেও মোটরবাইক চালকদের মধ্যে সচেতনতা আসেনি বলে ভুক্তভোগী নগরবাসীর অভিযোগ। নগরীর ফ্লাইওভারের ওপরে গত এক বছরে যে কয়টি মোটরবাইক দুর্ঘটনা ঘটেছে তাতে প্রাণহানির সংখ্যা অন্তত ১০ জন বলে চমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম মহানগরী পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নাজমুল হাসান ইত্তেফাককে বলেন, নগরীতে রাস্তার ট্রাফিক ঘনত্বের অবস্থা বুঝে যানবাহনগুলো ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৪৫ কিলোমিটার বেগে চালাতে পারে। কিন্তু গতির ক্ষেত্রে অনেক সময় নিয়ম মানতে দেখা যায় না। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর বর্তমান জনসংখ্যার তুলনায় সড়কের সংখ্যা কম। অন্যদিকে যানবাহনের সংখ্যা সড়কের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। এখানে যানবাহনের শৃঙ্খলা রক্ষায় ধীরগতির রিকশাসহ অন্যান্য দ্রুতগতির যানবাহনের জন্য নেই সুনির্দিষ্ট লেইন। ফলে বেপরোয়া গতির মোটরবাইকসহ যে কোনো যানবাহনের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে।

বিশিষ্ট নগর পরিকল্পনাবিদ, সাদার্ন ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রকৌশলী আলী আশরাফ ইত্তেফাককে বলেন, ট্রাফিক আইন প্রণীত হলেও মনে হচ্ছে চট্টগ্রাম মহানগরীতে সে আইনের কোনো সঠিক প্রয়োগ নেই। নগরীতে রিকশা, সিএনজি চালিত অটোরিকশার পাশাপাশি মোটরবাইকগুলোতেও স্পিডিং করতে দেখা যাচ্ছে। ফলে দুর্ঘটনা ঘটছেই। বিশেষ করে ফ্লাইওভারগুলোর ওপর এবং নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে দেখা যাচ্ছে, মোটরবাইকগুলো কোনো ধরনের নিয়ম-শৃঙ্খলা বা ট্রাফিক আইন মানার বিষয়টি গ্রাহ্য করছে না।