ভারত থেকে দুই মাসে এসেছে ৪৪৫ জন -----------বিজিবি ডিজি

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৪২

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘ভারতে নাগরিক আইন সংকট নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন নই। গত দুই মাসে ভারত থেকে ৪৪৫ জন অনুপ্রবেশ করেছে। গত এক বছরে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ১ হাজার। আমরা নিশ্চিত হয়েছি, তারা সবাই বাংলাদেশি। যেসব বাংলাদেশি ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করছে তারা বিভিন্ন সময়ে দালালের মাধ্যমে কাজের সন্ধানে ভারতে পাড়ি দিয়েছেন বা পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এনআরসি (ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস) বা সিএএ (সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট) ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির ডিজি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, সীমান্তরক্ষী বাহিনী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব, অবৈধভাবে কেউ যাতে সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে। আমরা এটা সফলভাবেই করে যাচ্ছি।

মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম বলেন, ‘গত এক বছরে আমরা ৬০৬ জন পুরুষ, ২৫৮ জন নারী, ১৩৫ জন শিশু এবং তিন জন পাচারকারীকে আটক করেছি। তাদের কেউ অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকছিল এবং কেউ অবৈধভাবে ভারতে যাচ্ছিল। ভারতের এনআরসির পরে নভেম্বর মাসে ৩১২ জন এবং ডিসেম্বরে ১৩৩ জন দেশে এসেছে। তারা মূলত ঝিনাইদহ, মহেশপুর এবং সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে এসেছে। তারা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে আমরা তা নিশ্চিত হয়েছি।’

ভারত সরকার ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধন (সিএএ) করে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে যাওয়া হিন্দু, খ্রিষ্টান, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ ও পারসি শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ সুগম করে। এরপর থেকেই সহিংস বিক্ষোভ চলছে দেশটির বিভিন্ন অংশে। ঐ অস্থিরতার মধ্যে ডিসেম্বরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর বাতিল করা হয়। তবে এনআরসি এবং সিএএ নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে বরাবরই আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, এগুলো একান্তই তাদের নিজস্ব বিষয়, এ নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বিজিবি ডিজি সীমান্ত হত্যার বিষয়ে বলেন, ‘আমাদের হিসেবে ১৯ সালে সীমান্তে ৩৫ জন মারা গেছেন। ভারতের হিসেবে আরো কম। এ বিষয়ে ভারতে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলনে আমরা আমাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধে দুই দেশ এক হয়েছে।’ বিজিবি প্রধান আরো বলেন, ‘ভারতের কোনো সীমান্তে আমরা কাঁটাতারের কোনো বেড়া দেইনি। তবে মিয়ানমারের সঙ্গে ৬৭০ কিলোমিটার বর্ডারে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এর কাজ শুরু হবে।’ তিনি বলেন, দেশের পশ্চিমাংশের সীমান্ত খুবই অদ্ভুত। কারো রান্নাঘর বাংলাদেশে, আবার থাকার ঘর ভারতে। ভারতের অনেক প্রতিবেশীর বাড়ি বাংলাদেশে। আবার বাংলাদেশের অনেক প্রতিবেশী বা নিকটাত্মীয়ের বাড়ি ভারতে। এসব নাগরিক জরুরি প্রয়োজনে বা সামাজিক অনুষ্ঠানে এক সঙ্গে অংশ নিতে চায়। এক্ষেত্রে ভিসার পরিবর্তে তাদের জন্য অল্প সময়ের জন্য তাত্ক্ষণিক পাস দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আছে। মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম জানান, বিজিবিকে আধুনিকায়নের কাজ চলছে। চোরাকারবারীদের নিত্যনতুন কৌশলের কারণেই এটা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।