বিগত দিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আগামী রমজানে পণ্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে চান বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। গতকাল বৃহস্পতিবার এক সভায় তিনি বলেছেন, আসন্ন রমজান মাসের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে ২ লাখ মেট্রিকটন পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। টিসিবি (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ), সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ এবং এস আলম গ্রুপ রমজান মাস শুরুর আগেই এই পেঁয়াজ আমদানি করবে। এছাড়া ভোজ্যতেল, ছোলা, আদা-রসুন, খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের চাহিদা, উত্পাদন, আমদানি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় মজুতের ব্যবস্থা করা হবে।
রমজান মাস উপলক্ষ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত, সরবরাহ, আমদানি, মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে ঐ সভার আয়োজন করা হয়। এতে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী এবং বর্তমানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় সম্প্রতি পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিকভাবে অতিরিক্ত লাভ করছেন। তাই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে এরপরও পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না। আবার নিজে ব্যবসায়ী হওয়ায় সাধারণ মানুষের অভিযোগ, আমি ব্যবসায়ীদের আনুকূল্য দেখাচ্ছি। সব মিলিয়ে আমি আগুনের মধ্যে বাস করছি।’
ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ৪৫ বছর ধরে ব্যবসা করছি। গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত যখন পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিল, তখন তো ঢাকার বাজারে আগের মালগুলোই ছিল। আপনারা ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে দামটা ডাবল করে দিলেন কেন? এখানে তো একটা নৈতিকতার ব্যাপার আছে। আমার প্রশ্নটা সেখানেই।’
এ সময় গোলাম মোস্তফা নামে একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা অনেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ৩ হাজার ৬০০ টাকায় তেল কিনে ২ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি করেছি। চিনি ১ হাজার ৪৭০ টাকায় মিলগেট থেকে কিনে ৯২৫ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। ব্যবসায়ীরা এ ধরনের লোকসান করতে পারলে লাভও করতে পারে।’ ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ন্যায়সংগত মুনাফা করে ব্যবসা করতে হবে। সরকার ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।
এ সময় তোফায়েল আহমেদ বলেন, এবার পেঁয়াজ নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে সমস্যা দেখা দিয়েছে। সরকার জরুরি পদক্ষেপ নিয়ে দেশের বড়ো বড়ো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে দিয়ে মিশর ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানি করিয়েছে। দেশেই যাতে প্রয়োজনীয় পেঁয়াজ উত্পাদন করা যায়, সেজন্য সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।
এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন মো. মফিজুল ইসলাম, ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান তপন কান্তি ঘোষ, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল ছাড়াও আমদানিকরকদের প্রতিনিধি, এনবিআর, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
