কাসেম সোলেইমানি হত্যার প্রভাবে বাড়ছে তেলের দাম

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:৩২

ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডসের অভিজাত বাহিনী কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলেইমানি ইরাকে নিহত হওয়া প্রভাব পড়েছে তেলের বাজারে। এই হামলার পরপর বিশ্বব্যাপী তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বেড়ে যায়।

 

বিবিসির সংবাদ অনুযায়ী, ইরান প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণায় এই অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়বে। ফলে জ্বালানির বাজারে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। শুক্রবার চার শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যরেল অপরিশোধিত জ্বালানির দর ৬৯ দশমিক ৫০ ডলারে উঠেছে। মধ্য সেপ্টেম্বরের পর অপরিশোধিত জ্বালানির এটাই সর্বোচ্চ দর।

 

অন্যদিকে তেল কোম্পানির শেয়ার দরও বেড়েছে। শুক্রবার লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে বিপি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বেড়েছে দেড় শতাংশ, রয়েল ডাচ শেল প্রতিষ্ঠানের দর বেড়েছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ।  

 

তেলবাহী নৌযানের বড় অংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন হয়ে থাকে। কাসেম সোলাইমানি হত্যাকাণ্ড মধ্যপ্রাচ্যসহ এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়াবে। ফলে তেল উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ২০১৮ সালে ২১ শতাংশ তেল এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়েছিলো। মধ্যপ্রাচ্য থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে তেল রফতানি করা হয় হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে। ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালীটি ওমান উপসাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে। হরমুজ প্রণালীর একদিকে আছে ইরান অন্যদিকে আছে অন্যান্য আরব দেশগুলো। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, কুয়েত, ইরান, কাতার এই পথে তেল রপ্তানি করে। গতবছর সৌদি তেলক্ষেত্রে ইয়েমেনের হুদি বিদ্রোহীরা ড্রোন হামলা করে ব্যপক ক্ষয়-ক্ষতি করে। সেসময় হুদি বিদ্রোহীদের সহায়তা করার অভিযোগ উঠে ইরানের উপর। এর আগে ১৯৭০ ও ১৯৯০ দশকের দিকে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতায় বিশ্বব্যাপী তেলের দামে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। বিশ্ব অর্থনীতির গতিও কমে যায়। নতুন করে শুরু হওয়া উত্তেজনায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর তেল উত্তোলন কমে যেতে পারে, ফলে আরো দাম বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

ইত্তেফাক/ইউবি