ভদ্দরনোক

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:৪৫

মুস্তাফা মাসুদ

বড়ো নদীর কিনারা ঘেঁষে এক গর্তে থাকে এক মা-কাঁকড়া আর তার একমাত্র ছেলে লালু। লালুর বাপকে কয়েক মাস আগে এক লোক কোঁচ দিয়ে এঁফোড়-ওফোঁড় করে ধরে নিয়ে গেছে। মা-কাঁকড়া এজন্য হাহুতাশ করে। ছেলেও বাপের কথা মনে পড়লে মুখ গোমড়া করে বসে থাকে।

ছেলের বাপ নেই বলে তাকে ভালোভাবে গড়ে তোলা আর আদব-কায়দা শেখানোর দায়িত্ব তো মায়েরই—মা এটা ভালোভাবেই জানে। তাই সে ছেলেকে এটা শেখায়। সেটা পড়ায়। কত কী যে করে!

একদিন মা-কাঁকড়া গর্তের মুখে বসে আছে। এমন সময় দেখে একটা বড়ো বক। ধবধবে সাদা পালক তার সারা গা-জুড়ে। যেমন তেলতেলে তেমনি সুন্দর। সে অল্পপানিতে হেঁটে হেঁটে মাছ ধরছে। কেমন টান-টান শরীর। মাথা উঁচু করে হাঁটছে। কাঁকড়াদের মতো একটুও গড়িয়ে গড়িয়ে হাঁটছে না। মা-কাঁকড়া বককে দেখে মুগ্ধ হয়। মনে মনে ভাবে—আহা রে! আমার বাবুটা যদি অমন সুন্দরভাবে, ঘাড় উঁচু করে হাঁটতে পারত!

এমন সময় গর্ত থেকে বেরিয়ে আসে লালু। ছেলেকে দেখেই মা বলে—দ্যাখ বাবা দ্যাখ কেমন ফকফকে ভদ্দরনোক।—এই বলে সে বককে দেখায়। তারপর বলে—আমিও তোকে ওর মতো বাবু আর ভদ্দরনোক বানাবো। তুই ওর মতো হাঁট দিখিনি।

ছেলে মায়ের কথামতো বকের মতো হাঁটার চেষ্টা করে। কিন্তু পারে না। যে-ই না সোজা হয়ে দাঁড়াবার চেষ্টা করে, অমনি ঢলে পড়ে যায় মাটিতে। সে ঘামতে ঘামতে বলে—না মা, এ আমাকে দিয়ে হবে না।

মা বলে—চল তাহলে আমরা বকের কাছেই যাই। সে-ই তোকে সব শিখিয়ে দেবে। সব শুনে বক বলে—দেখো মাসি, সবাই একরকম হয় না। তোমাদের দশ পা। আমার দুই পা। তোমরা গর্তে লুকোতে পার। আমি পারি না। তাই বলে কি আমি তোমাদের মতো হতে পারলাম না বলে হাহুতাশ করব? খোদা আমাদের এভাবেই সৃষ্টি করেছেন। আর এতেই আমাদের সন্তুষ্ট থাকা উচিত। তুমি, আমি, লালু—আমরা সবাই সুন্দর। খোদার সৃষ্টি কি কখনো অসুন্দর হয়?

বকের কথা শুনে মা-কাঁকড়া আর তার ছেলের মুখে হাসি ফুটে ওঠে। তারা খুশিমনে ফিরে যায় তাদের বাড়িতে।

ঈশপের গল্পের পুনর্কথন