রাউজানে কৃষিজমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়!

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২০, ২১:১৯

রাউজান (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

রাউজানে ইটভাটার মাটির জোগান দিতে বিভিন্ন স্থানে কৃষিজমি খনন করা হচ্ছে। বাদ যাচ্ছে না ডাবুয়া রাবার বাগানের আওতাধীন টিলাভূমিও। উপজেলার উত্তর-পূর্বাংশে পাহাড়ি এলাকা ঘেঁষে থাকা ইটভাটাগুলোতে মাটির জোগান দিতে ভাটার আশেপাশের এলাকার কৃষিজমি খনন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্বিচারে মাটি কেটে নেওয়ার ফলে কৃষিজমিগুলো বিশাল আকৃতির জলাশয়ে পরিণত হচ্ছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নের মেলুয়ায় একটি ইটভাটা সংলগ্ন কৃষিজমিতে মাটি কাটতে দেখা গেছে। জমির প্রকৃত মালিককে না জানিয়ে মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ঐ ইটভাটার মালিকের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের পক্ষে হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, হালিমা খাতুন ও ফটু আকতার নামের তার দুই আত্মীয়ের মালিকানাধীন প্রায় চার একর কৃষিজমির মাটি তাদেরকে না জানিয়ে খনন করে নিয়ে গেছেন ইটভাটার মালিক। এমন অভিযোগ করেছেন হালিমা খাতুনে পুত্র শহীদুল্লাহ সিকদারও। রাউজানের আরো বেশ কয়েকটি ইটভাটায়ও কৃষি জমি থেকে মাটি উঠিয়ে নিতে দেখা গেছে। হলদিয়ার বৃক্ষবানুপুর এলাকায়ও একটি ইটভাটার জন্য রাস্তার কিনারায় থাকা কৃষিজমি থেকে মাটি কাটতে দেখা গেছে। এভাবে মাটি কেটে নেওয়ার ফলে রাউজান উপজেলা সদর থেকে পার্বত্য উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের শহিদ জাফর সড়কের বিভিন্ন অংশে এখন ধসের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে আছে বিদ্যুতের দুটি খুঁটিও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৃথক স্থানে দুটি ইটভাটা প্রতিষ্ঠা করা হলোও কোনোটির পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। কৃষিজমি থেকে মাটি উঠানো নিয়ে কথা বললে মালিক মোহাম্মদ লোকমান দাবি করেন, জমির মালিকের সঙ্গে চুক্তি করে মাটি কাটা হচ্ছে। ভাটা চালানোর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ট্রেড লাইসেন্স ও ভ্যাট দেওয়ার কাগজ আছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই।

এ ব্যাপারে রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগ বলেন, কৃষিজমি রক্ষায় সরকার ও উপজেলা প্রশাসন সবসময় সজাগ। ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা ও ভরাট করা বেআইনি। তিনি আরো বলেন, মাটি কাটার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।