কেসিসির ৮২৩ কোটি টাকার ড্রেনেজ প্রকল্প
এনামুল হক, খুলনা অফিস
জলাবদ্ধতা নিরসন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) ৮২৩ কোটি টাকার প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন মেলে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে। এরপর অতিবাহিত হয়েছে একটি বছর। কিন্তু এখনো এ প্রকল্পের কোনো কাজের টেন্ডার আহ্বান করতে পারেনি সংস্থাটি। শুধু পরামর্শক নিয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ফলে অতিগুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পের কাজ সময়মতো বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নগরবাসীর অভিমত, বর্ষা মৌসুমে সবচেয়ে বড়ো ভোগান্তি জলবদ্ধতা। তাই ফের বর্ষা মৌসুম আসার আগেই গুরুত্বের সঙ্গে বেশি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এমন এলাকায় ড্রেন নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন হওয়া উচিত।
করপোরেশন সূত্র জানায়, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে নগরবাসী। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ময়ূর নদীসহ ১২টি খাল খনন করা হয়। খনন কাজে অনিয়মসহ নানা কারণে দুই বছরের মধ্যে ময়ূর নদী পুনরায় ভরাট হয়ে গেছে। এ অবস্থায় সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীতে হাঁটুপানি জমে যায়। সর্বশেষ কেসিসি নির্বাচনে তালুকদার আব্দুল খালেক বিজয়ী হলে ২২টি খাল পুনঃখনন করে নগরীকে জলাবদ্ধতামুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন। তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কেসিসির প্রকৌশল বিভাগকে নতুন প্রকল্প তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী ৮২৩ কোটি টাকার প্রকল্প তৈরি করা হয়। এ প্রকল্পের মূল অংশে রয়েছে ৯টি প্রধান সড়কের ৬২ কিলোমিটার এলাকায় প্রাইমারি ড্রেন নির্মাণ। নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের ভেতরে সেকেন্ডারি ড্রেন (৩ ফুটের কম) নির্মাণ করা হবে প্রায় ১২৮ কিলোমিটার। এছাড়া ময়ূর নদীসহ বিভিন্ন খাল খনন, পাড় বাঁধাই ও গেট নির্মাণ ইত্যাদি রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জলাবদ্ধতা নিরসন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে কেসিসি ২১৭ কোটি টাকা ছাড় পায়। যা নির্ধারিত সময়ে খরচ করতে হবে। কিন্তু এক বছর অতিবাহিত হলেও এখনো এ প্রকল্পের কোনো কাজের টেন্ডার আহ্বান করতে পারেনি সংস্থাটি। তবে, প্রকল্পের কনসালট্যান্ট নিয়োগ করা হয়েছে। এ বাবদ ৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা খরচ হবে। এছাড়া প্রকল্পটির নকশার কাজ চলছে।
নাগরিক নেতা ও বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ-উজ-জামান বলেন, খুলনা মহানগরবাসীর প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। শীত মৌসুম শেষ হতে চলেছে এখনো ড্রেন ও রাস্তা মেরামতের বেশির ভাগ কাজ বাকি রয়েছে। ফলে আগামী বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীকে আরো বেশি জলাবদ্ধতার ফল ভোগ করতে হবে। তিনি জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ড্রেন সংস্কার ও রাস্তা মেরামতের দাবি জানান।
এ ব্যাপারে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) নির্বাহী প্রকৌশলী-২ লিয়াকত আলী খান বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পে এরই মধ্যে কনসালট্যান্ট নিয়োগ করা হয়েছে। ডিডিসি নামের একটি প্রতিষ্ঠান ৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা দরে কাজটি পেয়েছে। বর্তমানে নকশার কাজ চলছে। তারা কিছু কিছু কাজ শেষ করতে পারলে সেগুলো টেন্ডারের আহ্বান করা হবে।
