মো. রাকিবুল ইসলাম, কামারখন্দ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের মাঠে মাঠে হলুদের সমারোহ। গ্রামের মাঠজুড়ে আবাদ হয়েছে সরিষা। ইতিমধ্যে সরিষা থেকে মৌমাছির সাহায্যে মধু সংগ্রহ শুরু হয়েছে। মধু সংগ্রহের কারণে সরিষার ফলনও বাড়ছে।
মৌচাষি ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কামারখন্দ উপজেলায় এবার সরিষার ব্যাপক আবাদ হয়েছে। সরিষা খেতে মধুর জন্য মৌ বাক্স বসানো হয়েছে। সরিষার পরাগায়ন থেকে মধু সংগ্রহ করে থাকে মৌমাছি। ফলে সরিষার ফলন ভালো হয় ও বাড়তি মধু পাওয়া যায়। এবার উপজেলায় ১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে।
জানা যায়, এবার গোপালগঞ্জ থেকে ১০২টি মৌ বাক্স বসানো হয়েছে। এ থেকে আড়াই মেট্রিক টন মধু আহরণ হতে পারে। শুধু সরিষাই নয়, মৌমাছিরা ফুলের পরাগায়ন ঘটিয়ে নানা ধরনের রবিশস্যের ফলন বৃদ্ধি করে। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে আবাদি জমির পাশে মৌমাছির বাক্স স্থাপন করতে সহযোগিতা করেছেন সাধারণ কৃষক। বর্তমানে মৌচাষে প্রতি বাক্স থেকে সপ্তাহে চার-পাঁচ কেজি মধু সংগ্রহ করা যায়। তবে অগ্রহায়ণ ও পৌষ মাসে মধু সংগ্রহ বেশি হয়। গোপালগঞ্জের মৌচাষি ইয়াছিন হোসেন জানান, আমি ৬০টি বাক্স স্থাপন করেছি। সরিষা মৌসুমে আমার বাক্সগুলো থেকে ২৪০ কেজি থেকে ৩০০ কেজি মধু পাব বলে আশাবাদী। যার বাজারমূল্য ৪৮ থেকে ৬০ হাজার টাকা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার সাদাত বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে মৌচাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। মৌ চাষের ফলে সরিষা পরাগায়নে সাহায্য করে। মধু আহরণে ফসলের ফলন বৃদ্ধি পায় ফলে কৃষক অতিরিক্ত মুনাফা পান। এলাকার মৌচাষিদের সাফল্যের কথা শুনে ও মৌচাষ দেখে শিক্ষিত বেকার যুবক মৌচাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।
