ফাইনালে প্রতিপক্ষ রহমতগঞ্জ
স্পোর্টস রিপোর্টার
ফেডারেশন কাপ ফুটবলের গত আসরে ফাইনাল খেলেও ট্রফি জিততে পারেনি সে সময়ের নতুন দল বসুন্ধরা কিংস। তবে বর্তমান রানার্স আপরা নতুন মৌসুমে এবারও ফেডারেশন কাপে ফাইনালের টিকিট পেয়েছে। শীতের বৃষ্টি ভেজা বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বসুন্ধরা ৩-০ গোলে পুলিশ দলকে উড়িয়ে দিয়ে ট্রফির লড়াইয়ে যোগ দিয়েছে। প্রথমার্ধে ১-০ থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে আরো দুই গোল দেয় দলটি।
বসুন্ধরা কিংস আগামীকাল ফাইনালে রহমতগঞ্জের মুখোমুখি হবে।
প্রথম সেমিফাইনাল ম্যাচ দেখে সতর্ক ছিল বসুন্ধরা। তাই কোমর বেঁধে কাল টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মাঠে নেমেছিল বসুন্ধরা। পুলিশকে শক্তিশালী দল মনে করেই লড়াইয়ে নামে। জানা ছিল রহমতগঞ্জ কীভাবে মোহামেডানকে উড়িয়ে ফাইনালে যোগ দিয়েছিল। তার পরও এদিন দূরন্ত সূচনা করেছিল পুলিশ ফুটবল ক্লাব। খেলার প্রথম ১৫ মিনিট পুলিশের তাণ্ডব দেখে অনেকে মনে করেছিলেন বসুন্ধরা ভেঙে পড়তে পারে।
আক্রমণের পর আক্রমণে চাপে থাকলেও বসুন্ধরা একবারও ভেঙে পড়েনি। ১৭ মিনিটে স্রোতের বিপক্ষে একটা সুযোগ পেলেও পুলিশের ডিফেন্ডার খান তারার অযাচিত ফাউলে পেনাল্টি পায় বসুন্ধরা। খান তারা বসুন্ধরার অধিনায়ক কোস্টারিকার কলিন্দ্রেসকে ফেলে দেন বক্সে। এই ফুটবলার বসুন্ধরার প্লেমেকার, নিজে খেলেন এবং দলের খেলার চালিকা শক্তি তিনি। তার ওপর নজর রাখতে ব্যর্থ হয়ে মাটিয়ে ফেলে দেন পলিশের ডিফেন্ডার খান তারা।
তপু বর্মণ পেনাল্টিতে গোল করেন (১-০)। এই ডিফেন্ডার তারা ব্রাদার্সেই নিয়মিত খেলতে পারেননি। আর বেঞ্চ হতে উঠে যেকয়টা ম্যাচ খেলেছেন বিপদই ডেকে আনতেন। সেই ডিফেন্ডার কাল সেমিফাইনালে পুলিশকে পিছিয়ে দিয়েছেন। ডিফেন্স লাইন মোটেও ভালো ছিল না। আক্রমণে পুলিশ যতটা ক্ষুরধার ছিল রক্ষণে উলটো হয়েছে। শুরুটা ভালো করেও পুলিশের ফিনিশিংটা ছিল লেজেগোবরে। অনেকবার বিপদ ডেকে এনে ছিলেন।
কলিন্দ্রেস দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই সেই সুযোগটা নিয়েছেন ৫০ মিনিটেই। ডান দিক দিয়ে ঢুকে প্রথম পোস্টে দারুণ একটা গোল করেছেন কলিন্দ্রেস (২-০)। বসুন্ধরা শক্তিশালী দল। পাওয়ার হাউজ। এই দলের বিপক্ষে লড়াই করে পেরে উঠা কঠিন। সামনে তারা এএফসি কাপ ফুটবলে খেলবে। সেভাবেই দলটাকে মাঠ এবং মাঠের বাইরে শক্তিশালী করা হয়েছে। যেখানে বড়ো ধাক্কা খেয়েছে পুলিশ।
পুলিশের আক্রমণভাগ শক্তিশালী। মাঝমাঠও খারাপ না। কিন্তু টানা ম্যাচ খেলে কিছুটা ক্লান্ত সেটা বুঝা গেল ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধেই। দুই গোলেই বুঝা যাচ্ছিল বসুন্ধরাকে ঠেকানো যাবে না। পুলিশের ফুটবল প্রদীপ নেভা ছিল সময়ের ব্যাপার। তার পরও বসুন্ধরা আক্রমণের স্রোত বইয়ে দিয়েছিল। কোনোরকমে ঠেকিয়ে গেলেও স্টপেজ টাইমে পুলিশ তৃতীয় গোল হজম করল, আর্জেন্টাইন ফুটবলার নিকোলাস দেলমন্টে শেষ গোলটি করে পুলিশের বুকে পেরেক ঠুকে দিয়েছেন ৩-০।
