দাবানল পরিস্থিতির আরো
অবনতির আশঙ্কা
রয়টার্স
ভয়াবহ দাবানলে পুড়তে থাকা অস্ট্রেলিয়া একটি শহর পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় অধিবাসীদের তীব্র ভর্ত্সনা আর তোপের মুখে পড়েছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। বৃহস্পতিবার নিউ সাউথ ওয়েলসের কোবারগো পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মরিসন। দাবানলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে কোবারগো অন্যতম। শহরটির বেগাভ্যালি মঙ্গলবার সকাল থেকে দাবানলে পুড়ছে। মারা গেছে তিন জন। মরিসন তার সহযোগীদের নিয়ে ঐ এলাকায় পৌঁছে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলতে গেলে বাসিন্দাদের তোপের মুখে পড়েন। লোকজন তাকে গালিগালাজও করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, মরিসন এক নারীর কাছে গিয়ে তার কুশল জানতে চেয়ে তার সঙ্গে হাত মেলানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু তাতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না ঐ নারী। বরং কড়া চোখে মরিসনের দিকে তাকিয়ে রাগান্বিত স্বরে তিনি বলছেন, ‘আমাদের রুরাল ফায়ার সার্ভিসকে আপনি আরো তহবিল দিলেই কেবল আপনার সঙ্গে হাত মেলাব। বহু মানুষ বাড়িঘর হারিয়েছে।’ ‘আমাদের আরো সাহায্য চাই’ বলতে শোনা যায় ঐ নারীকে। এ সময় একজনকে এগিয়ে এসে ঐ নারীকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়।
এরপর আরো কয়েকজন অধিবাসী প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে চেঁচিয়ে কথা বলে। ‘আপনি এখানে আর কোনো ভোট পাবেন না, ‘আপনি একটা ইডিয়ট’, ‘চলে যান, দূর হয়ে যান’, ‘আপনি এখানে স্বাগত নন’,—এমন সব কথা বলতে শোনা যায় তাদের। এমন বিরূপ আচরণের শিকার হয়ে শেষমেশ প্রধানমন্ত্রী মরিসন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মন্ত্রী ডেভিড লিটলপ্রাউড দ্রুত হেঁটে গাড়িতে উঠে সঙ্গে সঙ্গে এলাকা ত্যাগ করেন।
গত সেপ্টেম্বর থেকেই ক্রমাগত দাবানলে জ্বলছে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন এলাকা। পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করার মধ্যেই কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী মরিসন হাওয়াই দ্বীপে অবকাশ যাপনে ছিলেন। মরিসন তার পূর্বনির্ধারিত ছুটিতে থাকলেও দেশের এ পরিস্থিতিতে তার অনুপস্থিতি অনেককেই ক্ষুব্ধ করে। কোবারগো পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সম্ভবত সেই রোষেরই শিকার হয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ায় দাবানলে এ পর্যন্ত মারা গেছে ১৮ জন; ধ্বংস হয়েছে ভিক্টোরিয়া এবং নিউ সাউথ ওয়েলসের ১২০০ বেশি বাড়িঘর। সামনের দিনগুলোতে দাবানল আরো হিংস্র হয়ে উঠতে পারে বলে কর্তৃপক্ষের পূর্বাভাসের পর হাজার হাজার মানুষ ‘ট্যুরিস্ট লিভ জোন’ ছেড়ে পালাচ্ছে। আজ শনিবার পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
