আসুন, প্রশ্ন করি

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৪০

সাহস রতন

 

কী খবর ভাইয়া, ভালো? কেমন কাটছে দিনকাল? আচ্ছা ভাইয়া আপনি এমন কী চাকরি করেন যে, দুই বছরের মধ্যে ঢাকায় জমি কিন্যা বাড়ি বানাইয়া ফালাইলেন? ঘটনা কী মামা? প্লিজ, কাহিনিটা একটু বলেন না। আমরাও টেকনিকটা শিখে রাখি।

এই বাবু শোনো। তোমার আব্বু যে বিরাট ঘুষখোর তা কি তুমি জানো? তোমার বিশ্বাস হয় না? তাহলে আজ আব্বু বাসায় ফিরলে তাঁকে জিজ্ঞেস কইরা দেইখো। আর শোন, তুমি তো এখন আর ছোটো না। তোমার আব্বুকে প্রশ্ন করবা উনি কত বেতন পান? তারপর তোমাদের মাসের খরচটা হিসাব কইরা দেইখো। তখন বুঝবা বাকি টাকাটা কোত্থাইকা আসে। বুঝছ?

এই যে ট্রাফিক ভাইয়া, সবুজ বাতি তো জ্বইলা আছে তারপরও হাতে ইশারা কইরা গাড়ি দাঁড় করাইয়া রাখছেন ক্যান? হাতের ইশারায়ই যদি চলতে হবে, তাইলে এত টাকা খরচ কইরা সিগনাল বাতি লাগানোর কী দরকার ছিল?

এক্সকিউজ মি। সার্জেন্ট ভাই। এইডা আপনি কী করলেন? দিনে দুপুরে ড্রাইভারের কাছ থেকে নগদ পাঁচ শ টাকা হাতাইয়া নিলেন? এই নাকি আইন-শৃঙ্খলা?

প্রফেসার সাহেব। কিছু মনে করবেন না। একটা প্রশ্ন করি? আপনি চাকরি করেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু সারা বছর দেখি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে ক্লাস নেওয়ার জন্য ব্যস্ত থাকেন। শিক্ষক হয়ে এই অন্যায়টা যে করতাছেন এইটা কি ঠিক হচ্ছে?

কী ব্যাপার? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বলেই দোতলা বাসটা উলটা দিক দিয়া চালাইয়া দিতে হবে? রাস্তায় তো পুরাই জ্যাম লেগে গেল? ছাত্রাবস্থায়ই দুই নম্বরি শিখতাছেন। পড়াশুনা শেষ কইরা চাকরিতে যোগ দিলে আপনাকে দিয়ে তো একনম্বর কোনো কাজই করানো যাবে না।

হ্যালো! এই যে ভাই। দোকানের মালপত্র রেখে পুরা ফুটপাথটা তো দখল কইরা ফালাইলেন। এখন হাঁটব কোনখান দিয়া? প্লিজ আপনার মালামালগুলো ফুটপাথ থাইকা সরাইয়া রাখেন তো।

হ্যালো, এটা কি বিদ্যুত্ অফিস? আচ্ছা, আমাদের এখানে প্রতিদিন ছয়বার করে লোডশেডিং হচ্ছে কেন? গুলশান, বনানী, বারিধারা, ডিওএইচএস, সেক্রেটারিয়েট ওখানেও কি প্রতিদিন ছয়বার লোডশেডিং হয়? গ্রামে থাকি বলে আমরা কি ন্যায্য নাগরিক সুবিধা পাব না?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সর্বশেষ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার সময় বলেছিলেন, ‘নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নিয়ে কাজ করব, যেমনটা আমরা করেছিলাম জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে।’ ইতিহাস বলে, বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা মুখে যা বলেন বাস্তবে তা করে দেখান। আর সেই ঘোষণা অনুযায়ী বর্তমানে তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত আছেন। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। আমরা আশা করি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জঙ্গিবাদ দমনের মতো দুর্নীতিবিরোধী অভিযানও চলমান থাকবে এবং নিকট ভবিষ্যতে আমরা দুর্নীতি নিয়ন্ত্রিত একটি সমাজ গড়ে তুলতে সক্ষম হবো। তবে সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। তথ্য দিয়ে সরকারকে সহায়তা করতে হবে। কয়েকমাস আগে আমার পরিচিত প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী সম্পর্কে আমি দুদকের ১০৬ নাম্বারে একটা এসএমএস করেছিলাম। আমি শুধু কর্মচারীটির নাম, মোবাইল নাম্বার, কর্মস্থলের তথ্য দিয়ে বলেছিলাম, ‘এই কর্মচারীর জীবন যাপনের স্টাইল তাঁর পদবির সঙ্গে যায় না। আপনারা যাচাই করে দেখুন।’ ব্যস। এই পর্যন্তই। কিছুদিন পর শুনলাম কর্মচারিটি নজরদারির মধ্যে আছে। আমাদের চারপাশে ঘটতে থাকা দুর্নীতির খবর দুদককে এসএমএম করে সবারই জানানো উচিত বলে মনে করি।

পাশাপাশি, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের এসব প্রশ্ন করা যেতে পারে। আমরা কেউ কোনো প্রশ্ন করছি না বলেই দুর্নীতি সীমা ছাড়িয়ে গেছে। আমার বিশ্বাস, দলে দলে প্রশ্ন করতে থাকলেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে শুরু করবে।

ঢাকা