ছায়ানটে লোকসংগীতের আসর
ইত্তেফাক রিপোর্ট
চাকরি জীবন থেকে অবসরের পর সবাই গুটিয়ে যেন জীবন থেকে ছুটি নেন। সেই পথে পা না বাড়িয়ে আটজন শিল্পী নতুন করে শুরু করলেন জীবন। চারুকলা থেকে পাশ করেছিলেন ৪০ বছর আগে। এরপরে ছবি আঁকা থেকে অনেকেই দূরে সরে ছিলেন। অবসরের পর আবার নতুন করে শুরু করেছেন ছবি আঁকা। সেইসব ছবি নিয়ে তারা আয়োজন করেছেন ‘ফ্রেম ৭৪’ শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনীর। গ্যালারি চিত্রকে শুরু হয়েছে চারুকলার ‘৭৪ ব্যাচের আট শিক্ষার্থীর এ যৌথ প্রদর্শনী। শিল্পীদের অনেকেই চারুকলা থেকে পাশ করে কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত ছিলেন। সেখান থেকে অবসরে যাওয়ার পর নতুন করে ছবি আঁকা শুরু করেছেন তারা। সেইসব ছবিই স্থান পেয়েছে প্রদর্শনীতে।প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া শিল্পীরা হলেন সাকিনা হোসেন, পারভীন জামান শাম্মু, রাহাত নিলুফার, সামিনা শারমীন, ওয়াহিদ জামান টোকন. মাহমুদুর রহমান অপু, জি এম খলিলুর রহমান ও মো. ফরিদ হোসেন সিদ্দিকী।
প্রধান অতিথি হিসেবে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্পী শহীদ কবির ও অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া শিল্পীদের মধ্যে সামিনা শারমিন, ওয়াহিদ জামান টোকন ও জি এম খলিলুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন গ্যালারি চিত্রকের নির্বাহী পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান।
এটি শিল্পীদের দ্বিতীয় প্রদর্শনী। দীর্ঘদিনের অনভ্যস্ততা কাটিয়ে অনেকেরই বেশ সাবলীল বিচরণ দেখা গেল ক্যানভাসে। শিল্পীদের ছবিতে উঠে এসেছে সমসাময়িক বিষয়, বাংলার প্রকৃতি, মানুষ ও জীবন। ছবিতে উঠে এসেছে রোহিঙ্গাদের জীবন, গ্রাম বাংলার খেটে খাওয়া মানুষ, ফুল, পাখি, নদী ও নদী তীরবর্তী মানুষের জীবন প্রভৃতি। প্রদর্শনীতে আট শিল্পীর ৭৫টি চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে। প্রদর্শনী চলবে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত। ধানমন্ডির (গ্রিন রোড) ৬ নম্বর সড়কের গ্যালারি চিত্রকে প্রদর্শনী খোলা থাকবে সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।
ছায়ানটে বসেছিল বার্ষিক লোকসংগীতের আসর। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে ছায়ানটের প্রধান মিলনায়তনে শিল্পীরা লোকসংগীত পরিবেশনায় অংশ নেন। অনুষ্ঠান শুরু হয় সম্মেলক কণ্ঠে জসীম উদ্দীনের লেখা গান ‘ওই না রূপে নয়ন দিয়ে’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। স্বাগত কথনে অংশ নেন ছায়ানটের লোকসংগীত বিভাগের শিক্ষক তপন মজুমদার।
এরপর ছিল শিল্পীদের গানের আসর। অনুষ্ঠানে শিল্পীরা কবি জসীম উদ্দীন, মনমোহন দত্ত, দূরবীন শাহ, বাউল চাঁন মিয়ার গান গেয়ে শোনান। অনুষ্ঠানে একে গান গেয়ে শোনান শিল্পী সরদার মো. রহমাতুল্লা ‘তুমি কাইন্দো না ওরে আমার’, পলি রায় ‘তুমি আমার বন্ধু লাগো’, সঞ্চিতা বর্মণ ‘ও সুজন বন্ধু’, মহিতোষ কুমার মণ্ডল ‘যে দিন আমার ভবলীলা’, মো. মানিক ‘মন্দিরে দেবতা নাই’, মুকুল মজুমদার ‘আমি তোমার পোষা পাখি’, নারায়ণ চন্দ্র শীল ‘আমার বন্ধু যদি হইতো পোষা পাখি’, জোনাকী রানী শীল ‘ধরতে যদি অধরারে’, আবুল কালাম আজাদ ‘আজ রাধার শুভদিন’, এরফান হোসেন ‘নির্জন যমুনার কূলে’, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস ‘কান্দায়োনা পরান বন্ধু’, নাজমুল আহসান তুহিন ‘আমি এই দেখিলাম সোনার ছবি’, সুপ্রিয়া শাহনেওয়াজ ‘তুমি ডাক দিলে অবলার পানে’ ও মো. খায়রুল ইসলাম ‘রজনী হোসনে অবসান’ গান গেয়ে শোনান। এছাড়াও শিল্পীরা সম্মেলক কণ্ঠে গেয়ে শোনান ‘আর কি শ্যাম আসিবে গো’, তোরা আয় ও চাষি ভাই’, ‘কাইন্দোনা রাই কমলিনী’, ‘জগত্ জননী জাগো’। সবশেষে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান।
