শিল্পকলায় শুরু বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক উত্সব

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২০, ২২:১২

সারাদেশের সংস্কৃতিকর্মীদের অংশগ্রহণে এক বিশাল মহাযজ্ঞ শুরু হয়েছে শিল্পকলা একাডেমিতে। ৬৪ জেলার পাঁচ হাজার শিল্পী নাচ, গান, আবৃত্তি, যাত্রাপালা, যন্ত্রসঙ্গীত নিয়ে হাজির হয়েছেন ঢাকায়। আয়োজকরা বলছেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড়ো সংস্কৃতি উত্সব হলো এই বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক উত্সব।

ঐহিত্যবাহী লোকজ খেলা, লোকনাট্য ও সারাদেশের শিল্পীদের বিভিন্ন নান্দনিক পরিবেশনার মাধ্যমে সাজানো হয়েছে এই উত্সবের অনুষ্ঠানমালা। উত্সবে প্রতিদিন তিনটি জেলা, তিনটি উপজেলা, জাতীয়পর্যায়ের শিল্পী ও সংগঠনের পরিবেশনা থাকবে। এছাড়া একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রতিদিন রাত ৮টা থেকে একটি লোকনাট্য পরিবেশিত হবে।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে ছিল উত্সবের উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা। প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। উত্সব উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমির সচিব মো. বদরুল আনম ভূঁইয়া।

পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, আমাদের রাজনৈতিক সীমারেখা আছে। সেই সীমারেখার বাইরে সাংস্কৃতিক সীমারেখা ছড়িয়ে গেছে। সারাবিশ্বে সেই সাংস্কৃতিক ঝান্ডা উড়ছে। বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে সেই নেতৃত্ব আমাদের কাছে এনে দিয়েছেন। এখন আমাদের সচেতন হতে হবে, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রকে আরো এগিয়ে নিতে হবে।

কে এম খালিদ  বলেন, দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক উত্সব হচ্ছে। যেখানে ৬৪টি জেলা ও উপজেলা অংশ নিচ্ছে। ভবিষ্যতে বিভিন্ন জেলায় সাংস্কৃতিক উত্সব হবে। এর মধ্য দিয়ে সারাদেশে সাংস্কৃতিক জাগরণ তৈরি হবে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ সবার আগে এগিয়ে আসে। সেটা আমরা যে কোনো সংকটে দেখে এসেছি। লিয়াকত আলী লাকী বলেন, আমরা অনেক                 হারিয়েছি। এক সময় আমাদের ৬০০ ধরনের বাদ্যযন্ত্র ছিল, এখন আছে ২০০। আমরা আমাদের সাংস্কৃতিক আর কোনো কিছুই হারাতে চাই না। এজন্য আমরা সারাদেশের লোকজ সংস্কৃতি নিয়ে এই উত্সবের আয়োজন করেছি।

যন্ত্রসংগীতশিল্পী কাজী হাবলুর পরিচালনায় ‘জয়বাংলা, বাংলার জয়’ গানটির সঙ্গে যন্ত্রসংগীতের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী পরিবেশনা শুরু হয়। একাডেমির শিল্পীরা নৃত্য পরিবেশন করেন। এরপর প্রথম দিনে উদ্বোধনী আয়োজনের পর ময়মনসিংহ ও গোপালগঞ্জ জেলার পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। জেলার পরিবেশনা শেষে একাডেমি প্রাঙ্গণে রাত ৮টায় শুরু হয় ঝিনাইদহ যাত্রাদলের যাত্রাপালা।

বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক উত্সবের পরিবেশনার মধ্যে রয়েছে সমবেত সংগীত, যন্ত্রসংগীত, ঐতিহ্যবাহী লোকজ খেলা, পালা, একক সংগীত, বাউল সংগীত, ঐতিহ্যবাহী লোকনাট্য, যাত্রা, সমবেত নৃত্য, অ্যাক্রোবেটিক, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পরিবেশনা, পুতুলনাট্য, একক আবৃত্তি, শিশুদের পরিবেশনা, বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সংগীত ও নৃত্য, বৃন্দ আবৃত্তি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবেশনা, আঞ্চলিক ও জেলা ব্রান্ডিং-বিষয়ক সংগীত ও নৃত্য এবং জেলার ঐতিহ্যবাহী ভিডিওচিত্র  প্রদর্শনী।