অনিয়ম-অবহেলার বিস্তর অভিযোগ, প্রতিকার নেই

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২০, ২২:১৫

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট যশোর জেনারেল হাসপাতালে নানা অনিয়ম ও রোগীদের প্রতি অবহেলার বিস্তর অভিযোগ আছে। এসবের সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। কিন্তু সেসব প্রতিবেদনে গুরুতর অভিযোগের প্রমাণ কখনোই দেখানো হয় না। গত দেড় বছরে এমন ডজনখানেক অভিযোগের কোনো সুরাহা হয়নি। নামকাওয়াস্তে গঠন করা তদন্ত কমিটি কোনো ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এমন নজির নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তায় সুযোগে চিকিত্সক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনিয়ম চালিয়েই যাচ্ছেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু ইত্তেফাককে বলেন, তদন্ত কমিটির বেশিরভাগ রিপোর্টেই ‘অজান্তে ভুল হয়েছে বলে’ হাল্কাভাবে দেখার সুপারিশ করা হয়। 

গত বছর ২৬ অক্টোবর পিত্তথলির পাথর অস্ত্রোপচারের পর মনোয়ারা বেগম (৫৫) নামে এক রোগীকে আটকে রেখে স্বজনদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়। একই সঙ্গে চিকিত্সকের স্বাক্ষরবিহীন শর্ট স্লিপের মাধ্যমে ওষুধ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কের কাছে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত টিম গঠন হয়।

গত ১০ নভেম্বর উপশহরের ইন্তাজ আলীর ছেলে আলমগীর সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিত্সক ও সেবিকার অবহেলায় ১২ নভেম্বর রাতে মারা যান তিনি। স্বজনদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন হয়। এর আগে ২০১৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর যশোর শহরতলীর খোলাডাঙ্গার ফারুক হোসেনের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সালমা খাতুন হাসপাতালে সন্তান প্রসব করেন। রোগীর অবস্থা খারাপ হলেও সেখানে কোনো চিকিত্সক ছিলেন না। ঐ সময় দায়িত্বরত আয়া হেলেনা প্রসব হওয়া শিশুকে মৃত ভেবে কাপড়ে পেঁচিয়ে বেডের নিচে রেখে দেন। পরে শিশুর কান্নার শব্দ পান স্বজনরা। এই ঘটনায়ও তদন্ত কমিটি গঠন হয়। ৩১ আগস্ট অন্তঃসত্ত্বা রোকসানা খাতুনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ায় সেবিকা ও ইন্টার্ন চিকিত্সক ডা. ইলা মন্ডলকে খবর দিলেও তিনি রোগী দেখতে      আসননি। এসময় গাইনি ইউনিট-২ এ দায়িত্বরত অন্য বিশেষজ্ঞদেরও দেখা মেলেনি। অস্ত্রোপচার কক্ষে নিয়েও শেষ পর্যন্ত কোনো চিকিত্সক না আসায় তার অপারেশনও হয়নি। বাধ্য হয়ে রাতেই রোগীকে নিয়ে যাওয়া হয় বেসরকারি একটি হসপাতালে। এই ঘটনায়ও গঠন করা হয় তিন সদস্যের কমিটি।

গত বছর ১০ এপ্রিল চৌগাছা উপজেলার সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের আড়শিংড়ী গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ আবু তাহের জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে ভর্তির সময় জরুরি বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন ডা. কল্লোল কুমার সাহা। ১২ এপ্রিল হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। জখমি সনদপত্রটি ‘গ্রিভিয়াস’ করার নামে রোগীর স্বজনদের কাছে ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন জমাদ্দার সর্দার ইমরান হাসান টপি। অভিযোগের ভিত্তিতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এমন আরো অগণিত উদাহরণ আছে।

সূত্র জানায়, প্রতিটি ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। অজ্ঞাত কারণে প্রতিটি তদন্ত প্রতিবেদন ফাইলবন্দি হয়ে আছে। এই বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু জানান, প্রতিটি ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি অভিযুক্তদের সতর্ক করেছেন বলে জানান।