সারাদেশেই নামছে বৃষ্টি। কোথাও হালকা থেকে মাঝারি, আবার কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ঠাণ্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ফলে অসচ্ছল, দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষরা বিপন্ন বোধ করছে। সংকুচিত হয়ে পড়ছে তাদের দৈনন্দিন আয়ের পথ। আবার ঠান্ডায় শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। বৃষ্টি কেটে গেলেই ২/৩ দিনের মধ্যে শুরু হবে ফের শৈত্যপ্রবাহ।
গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে ঢাকাসহ সারাদেশেই বৃষ্টি হচ্ছে। আজ শনিবারও বৃষ্টি হবে। বৃষ্টিতে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমে আসায় পৌষের বৃষ্টিতে বাড়ছে ঠাণ্ডা। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পুবালি লঘুচাপের প্রভাবে পশ্চিমা ঠান্ডা বাতাস এবং বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্পের সঙ্গে যে গরম বাতাস আসে তার মিশ্রণে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃষ্টি কেটে গেলেই উত্তরাঞ্চলসহ দেশের কোথাও কোথাও মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ শুরু হবে। তখন কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মাসে তিনটি শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়বে দেশবাসী। এর মধ্যে ৬ জানুয়ারির পর একটি এবং মাসের শেষ দিকে আরেকটি শৈত্যপ্রবাহ হবে। এ দুটি শৈত্যপ্রবাহ হবে তীব্র ধরনের। আর মাসের মাঝামাঝি সময়ে বইবে একটি মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ।
এদিকে বৃষ্টি ও শীতে জনজীবনে স্থবিরতা নামার পাশাপাশি কোথাও কোথাও পানি জমে পথচারীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শুক্রবার ঢাকার রাস্তায় বেশিরভাগ মানুষ বের হয়নি। ফলে সড়ক অনেকটাই ছিল ফাঁকা। তবে জীবিকার টানে বেরিয়েছেন অসচ্ছল ও দরিদ্র মানুষেরা। তবে তাদের বেশির ভাগই থেকেছেন কর্মহীন। বৃষ্টি ও তীব্র শীতে বরিশাল, সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণাঞ্চলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে মানুষ। অতি প্রয়োজন ছাড়া লোকজন ঘর থেকে বের হচ্ছে না।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে নোয়াখালীর মাইজদীকোর্টে ৬১ মি.মি.। যা ভারী বৃষ্টিপাত হিসেবে রেকর্ড করেছে অধিদপ্তর। এছাড়া ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে ভোলায় ৫০ মি.মি. ও ফেনীতে ৪৭ মি.মি.। মাঝারি থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হয়েছে মোংলায় ৩৫ মি.মি.; বরিশালে ৩৪ মি.মি.; খেপুপাড়ায় ৩২ মি.মি.; চাঁদপুরে ৩০ মি.মি.; নিকলিতে ২৮ মি.মি.; গোপালগঞ্জ, কুমিল্লায় ও সাতক্ষীরায় ২৫ মি.মি.; খুলনায় ও কুমারখালীতে ২৩ মি.মি.; টাঙ্গাইলে ২২ মি.মি.; ফরিদপুরে ২১ মি.মি.; তেঁতুলিয়ায় ২০ মি.মি.; হাতিয়ায় ও যশোরে ১৯ মি.মি.; ঢাকা ও পটুয়াখালীতে ১৮ মি.মি.; চুয়াডাঙ্গায়, মাদারীপুর ও সীতাকুন্ডে ১৭ মি.মি.; চট্টগ্রামে ১৫ মি.মি.; সন্দ্বীপ, সিলেটে ১৩ মি.মি.। এছাড়া হালকা বৃষ্টিপাত হয়েছে ময়মনসিংহ, কক্সবাজার, কুতুবদিয়া, শ্রীমঙ্গল, বদলগাছী, রংপুর, ডিমলা ও রাজারহাটে। বৃষ্টি হয়নি টেকনাফে। সামান্য বৃষ্টি হয়েছে দিনাজপুর ও সৈয়দপুরে।
অধিদপ্তর জানায়, পুবালি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তত্সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, যার বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। আজ শনিবার বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায়; ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। গতকাল ঢাকায় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ২২ দশমিক ৫ ও ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল টেকনাফে ২৭ দশমিক ২ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তেঁতুলিয়ায় ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বরিশালে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি
বরিশাল অফিস জানায়, তীব্র শীত আর বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের জনজীবন। কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি আবার কখনো ভারী বৃষ্টি হয়। অসময়ে অঝোর বৃষ্টি আর শীতে জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাটের খানাখন্দে পানি জমে গেছে। রাস্তাঘাট অনেকাংশে ফাঁকা। মানুষজনও তেমন একটা বাইরে বের হচ্ছেন না অতি প্রয়োজন ছাড়া। বিভাগীয় শহর বরিশাল নগরীর ব্যস্ততম সদর রোডে অন্যান্য দিনের চেয়ে খুবই কম ছিল সবধরনের যানবাহনের সংখ্যা। একাধিক ইজিবাইক চালক জানান, সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে কোনো যাত্রীর দেখা নেই। এদিকে ৬ শতাধিক অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন বরিশালের জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান। গতকাল সকাল ১১টায় বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের সম্মেলন কক্ষে এই শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করেন তিনি। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তৌহিদুজ্জামান পাভেল, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মো. হোসেন চৌধুরী, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত বিশ্বাস দাস, নিরূপম মজুমদারসহ অন্যরা।
আরও পড়ুন: ১২শ' টাকার জন্য রোহিঙ্গার হাতে রোহিঙ্গা খুন
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, সাতক্ষীরায় বৃষ্টির মধ্যে অতি জরুরি কাজ ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বাইরে বের হচ্ছে না। বৃষ্টি ও শীতে বিপাকে পড়েছেন জেলার খেটে খাওয়া মানুষগুলো। বেলা যতই বাড়ছে শীত ততই বাড়ছে। ঠাণ্ডাজনিত কারণে শিশুরা ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, জ্বর-সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বেশি বেড়েছে। পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, পঞ্চগড়ে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পর ঠাণ্ডা বেড়েছে। শুক্রবার দুপুরের পর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। এর আগে আকস্মিক আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। বৃষ্টির পর তাপমাত্রা কমে যায়।
ইত্তেফাক/কেকে
