প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া জনগণের মানবাধিকার রক্ষায় জনস্বার্থমূলক মামলা (পিআইএল) এখন সহায়ক ভূমিকা রাখছে। মানবাধিকার বিষয়ক বিচারকাজে এ মামলা দেশীয় মডেল হিসেবে বিচার বিভাগকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করছে।
তিনি বলেন, পিআইএল পদ্ধতি অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছে, তবে জনগণের অতি প্রশংসা যেন বিচারকদের প্রভাবিত না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বিচারিক প্রক্রিয়ার পবিত্রতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করতে হবে।
শনিবার সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে সুপ্রিম কোর্ট অনলাইন বুলেটিন (স্কব) আয়োজিত ‘জনস্বার্থ মামলার অবস্থা : একটি রূপরেখা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, পিআইএল মামলায় জনগণের মঙ্গলের জন্য আইন ও ন্যায় বিচারের মাধ্যমে বিচার বিভাগের সক্ষমতা কাজে লাগাতে হবে। জনগণের সার্বিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে হবে।
সেমিনারে সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন বিচারপতি জনস্বার্থ মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে কোন কোন আইনজীবীর ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন।
হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ বলেন, শুধু মিডিয়ার সামনে নিজেকে উপস্থাপনের জন্যই কিছু আইনজীবী জনস্বার্থের মামলার করছেন। এ ধরনের আইনজীবীরা মামলা করার সঙ্গে সঙ্গে মিডিয়ার সামনে গিয়ে হাজির হন। এটা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন (পিআইএল) এখন পাবলিসিটি ইন্টারেস্ট লিটিগেশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে চলতে পারে না। জনস্বার্থের মামলা পরিচালনার নামে যারা নিজেদেরকে মিডিয়ায় উপস্থাপনে ব্যস্ত তাদের লাগাম টেনে ধরতে হবে।
সেমিনারের প্রধান আলোচক হাইকোর্টের বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মৌলিক অধিকার ও সাংবিধানিক প্রতিকার প্রাপ্তির পথে মামলা করার আইনসঙ্গত অধিকারের গতানুগতিক ধারণা প্রধান অন্তরায়। কারণ যদি একটি ভাল মামলা খারিজ করা হয় এ যুক্তিকতায় যে, মামলার বিষয়বস্তুতে পিটিশনার কার্যকরভাবে স্বয়ং আক্রান্ত নন, তাহলে এর মাধ্যমে কিছু সরকারি এজেন্সিকে আইন লংঘন করতে উৎসাহ দেওয়া হবে, যা হবে জনস্বার্থ বিরোধী।
তিনি বলেন, উচ্চ আদালতের জুডিসিয়াল সক্রিয়তার ফলে দিনদিন জুডিসিয়াল রিভিউর সীমা বিস্তৃত হয়েছে এবং জনগণ সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের আওতায় জনস্বার্থ মামলার আকারে প্রতিকার পাচ্ছে।
আরো পড়ুন : রাজনীতিতে বিভেদের দেয়াল সৃষ্টি করেছিল বিএনপি : ওবায়দুল কাদের
বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, আমি যখন রিট মামলা শুনানির এখতিয়ার সম্পন্ন বেঞ্চের দায়িত্বে ছিলাম তখন একজন আইনজীবী ভারত থেকে ভেসে আসা একটি হাতি মারার ঘটনায় পিআইএল করেছিলেন। ওই মামলা আমি শুনিনি। আইনজীবীদের ধারণা থাকতে হবে আসলে জনস্বার্থে মামলা কোনটা হবে।
বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম বলেন, কিছু আইনজীবী মামলা করেই মিডিয়ার সামনে নিজেকে উপস্থাপন করতে মরিয়া হয়ে যায়। এতে কোর্টের পরিবেশ নষ্ট হয়। জনস্বার্থমূলক মামলা শুনানি গ্রহণের ক্ষেত্রে বেঞ্চগুলোর মধ্যে সমন্বয় থাকা দরকার।
বিচারপতি একেএম আব্দুল হাকিম বলেন, জনস্বার্থের মামলা যেন প্রকৃতপক্ষে জনগণের স্বার্থেই হয় সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। অনুষ্ঠানে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মুহাম্মদ ইমান আলী ও হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বক্তব্য রাখেন।
ইত্তেফাক/ইউবি
