স্পোর্টস রিপোর্টার
সবার আগে বঙ্গবন্ধু বিপিএলে সেরা চারে খেলা নিশ্চিত করেছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। বোলারদের কল্যাণে গতকাল টুর্নামেন্টে নিজেদের সপ্তম জয় তুলে নিয়েছে দলটি। সিলেট পর্বের শেষ দিনের প্রথম ম্যাচে গতকাল খুলনা টাইগার্সকে ৬ উইকেটে পরাজিত করেছে ইমরুল কায়েসের দল।
টসে হেরে ব্যাট করা খুলনা ১৯.৫ ওভারে ১২১ রানে অলআউট হয়। জবাবে ১৮.১ ওভারে ৪ উইকেটে ১২৪ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম। ২৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে চট্টগ্রামের পেসার মেহেদী হাসান রানা ম্যাচ সেরা হন। ৯ ম্যাচে খুলনার এটি চতুর্থ হার। এই হারে আরো একটু চাপে পড়ে গেল খুলনা। প্লে-অফের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে আরো অন্তত একটি ম্যাচ জিততে মুশফিকের দলকে। অবশ্য এখনো তাদের তিনটি ম্যাচ বাকি রয়েছে।
টার্গেট খুব বড়ো ছিল না। চট্টগ্রামের লম্বা ব্যাটিং লাইনের সামনে সেই টার্গেটকে আরো মামুলি করে দেন ওপেনাররা। লেন্ডল সিমন্স ও জুনায়েদ সিদ্দিকী ৬৯ রানের জুটি গড়েন। ১১তম ওভারে খুলনাকে ব্রেক থ্রু এনে দেন আলিস ইসলাম। ৩৬ রান করে সিমন্স কট অ্যান্ড বোল্ড হন। পরের ওভারে মিরাজের শিকার হন ৩৮ রান করা জুনায়েদ। আসেলা গুনারত্নে (০), চ্যাডউইক ওয়ালটন (৭) সুবিধা করতে পারেননি। তবে একপ্রান্ত আগলে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান অধিনায়ক ইমরুল কায়েস। ৩০ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিনি। নুরুল হাসান সোহান অপরাজিত ৬ রান করেন। খুলনার ফ্রাইলিঙ্ক দুটি, আলিস ইসলাম মিরাজ একটি করে উইকেট নেন। এর আগে চট্টগ্রামের পেসাররাই আটকে দিয়েছেন খুলনার ব্যাটিং লাইনআপকে। এদিন দলটির মাত্র তিন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করেছেন। রাইলি রুশোর ৪৮, মুশফিকের ২৯ ও ফ্রাইলিঙ্কের ১৭ রানের ইনিংসে ১০০ পার হয় খুলনার স্কোর। ইনিংসের শুরুতেই খুলনাকে ধাক্কা দিয়েছেন মেহেদী হাসান রানা ও রুবেল হোসেন। তাদের তোপে ১৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসে খুলনা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে মেহেদী হাসান রানা ফেরান খুলনার দুই ওপেনারকে। প্রথম বলে মিরাজ (৪) এলবির ফাঁদে পড়েন। চতুর্থ বলে হাশিম আমলার বিপিএল অভিষেককে ম্লান করে দেন এই বাঁহাতি পেসার। ৮ রান করে বোল্ড হন দক্ষিণ আফ্রিকার এই ব্যাটিং কিংবদন্তি। বিপদটা ঘনীভূত হয় পরের ওভারেই শামসুর রহমান (০) রুবেলের শিকার হলে।
বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা ছিল রুশো-মুশফিকের ৪৯ রানের জুটিতে। তাদের জুটি দীর্ঘায়িত হতে দেননি জিয়াউর রহমান। মুশফিক বোল্ড হন দলীয় ৬৩ রানে। রানের গতিও শ্লথ হয়ে আসে। ১৭তম ওভারে জোড়া আঘাত হানেন কেসরিক উইলিয়ামস। পঞ্চম বলে রুশো বোল্ড হন। ষষ্ঠ বলে পাকিস্তানি আমের ইয়ামিনও ক্যাচ তুলে ফিরেন। তাতেই খুলনার চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। একপ্রান্তে টিকে থাকা ফ্রাইলিঙ্ককে জেগে ওঠার সুযোগ দেননি মেহেদী হাসান রানা।
শেষদিকে রুবেল বোল্ড করেন আলাউদ্দিন বাবু ও তানভির ইসলামকে। চট্টগ্রামের রুবেল ১৭ রানে তিনটি, মেহেদী হাসান রানা ২৯ রানে তিনটি, কেসরিক উইলিয়ামস দুটি ও জিয়াউর রহমান একটি করে উইকেট পান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
খুলনা টাইগার্স: ১৯.৫ ওভারে ১২১
চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স: ১৮.১ ওভারে ১২৪/৪। ফলাফল: চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ৬ উইকেটে জয়ী। ম্যাচ সেরা: মেহেদী হাসান রানা (চট্টগ্রাম)।
