তবুও আশা ছাড়ছে না রংপুর

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২০, ২০:৫৬

স্পোর্টস রিপোর্টার

টানা চার ম্যাচ হেরে বঙ্গবন্ধু বিপিএল শুরু করেছিল রংপুর রেঞ্জার্স। পঞ্চম ম্যাচে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে হারিয়ে জয়ের খাতা খুলে দলটি। সেই জয়ের রোমাঞ্চ নিয়ে ঢাকায় এসেছিল রংপুর। বড়ো আশা করে শেন ওয়াটসনকে উড়িয়ে আনে রংপুর। কিন্তু ঢাকায় নেমেই প্রথমবার বিপিএল খেলতে নেমে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেননি এই অস্ট্রেলিয়ান। ষষ্ঠ ম্যাচে খুলনার কাছে হেরে যায় দলটি।

পরে সিলেট রাজশাহীকে হারিয়ে জয়ের ছন্দে ফিরে রংপুর। সিলেটে গিয়ে আবার রাজশাহীর কাছে হারে তারা। চড়াইউতরাইয়ের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলা রংপুর শিবিরে হতাশার প্লাবন বয়ে আনে ওয়াটসনের রান খরা। চার ম্যাচে মাত্র ১৫ রান করেছিলেন তিনি। ব্যাট হাতে দলের ভরসা হতে পারছিলেন না রংপুরের অধিনায়ক।

অবশেষ গত শুক্রবার জেগেছে ওয়াটসনের ঘুমন্ত ব্যাট। সিলেটের বিপক্ষে ৩৬ বলে ৬৮ রানের ইনিংস খেলেছেন। ছয়টি ৪ ও পাঁচটি ৬-এ নিজের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের ঝলক দেখিয়েছেন তিনি। ওয়াটসনের হাফ সেঞ্চুরিতেই সিলেটকে ৩৮ রানে হারিয়ে ১০ ম্যাচে চতুর্থ জয় নিশ্চিত করে রংপুর।

কিন্তু দলটির প্লে-অফ খেলার স্বপ্ন ইতিমধ্যে অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। তার পরও ছন্দে ফেরা ওয়াটসনকে নিয়ে নিজেদের চেষ্টা চালিয়ে যেতে চায় রংপুর। প্লে-অফের সমীকরণে টিকে থাকতে হলে শেষ দুটি ম্যাচেও জিততে হবে তাদের। মিরপুরে আগামী ৮ ও ১০ জানুয়ারি ঢাকা প্লাটুনের বিরুদ্ধে পরপর দুটি ম্যাচ খেলবে রংপুর। আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে জিততে হবে দুটি ম্যাচই। তার পরও প্লে-অফ খেলাটা নিশ্চিত হবে কি না সংশয় থাকছে।

এখনই ওই সমীকরণে চোখ না রেখে রংপুর চায় নিজেদের কাজটা ঠিকভাবে করতে। শুক্রবার রাতে এমনটাই বলেছেন দলের ক্রিকেটার জহুরুল ইসলাম। অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘১২ ম্যাচ শেষে সমীকরণ কী হবে—এটা আমাদের মাথায় ওইভাবে নেই। আমরা পরের দুটি ম্যাচ যদি ব্যাক টু ব্যাক জিততে পারি তাহলে যে কোনো কিছু হতে পারে।’

প্লে-অফে না যেতে পারলেও টানা চার ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করা রংপুরের জন্য ছয়টি জয়ও বড়ো অর্জনই হবে। জহুরুল ইসলাম বলেছেন, ‘টুর্নামেন্টের শেষে কী হবে জানি না তবে আমরা যদি ছয়টা জয় দিয়ে শেষ করতে পারি তাহলে সেটা অনেক বড়ো অর্জন হবে। আমরা প্রথমে ছয় ম্যাচে একটিতে জিতেছলাম। শেষে যদি আমরা ১২ ম্যাচে ছয়টা জিতি তাহলে এটা বেশ ভালো একটা সমীকরণ হবে। এটা হলো টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় পর্বে না যেতে পারলেও আমাদের জন্য বিরাট একটা অর্জন হবে এটা।’ ড্রেসিংরুমে ওয়াটসনের কাছ থেকে তরুণদের অনেক কিছু শেখার আছে বলে মনে করেন জহুরুল। তিনি বলেছেন, ‘ওর ক্যাপ্টেন্সি না। অফ দ্য ফিল্ড বা অন দ্য ফিল্ডে ওর কাছ থেকে অনেক শেখার আছে। সে ৩৬০/৭০টি ম্যাচ খেলেছে। সব বড়ো লেভেলের ম্যাচ খেলেছে। শুধু ক্যাপ্টেন্সি না, আমাদের সঙ্গে যে টিম মিটিং বা চলা ফেরা ছোটোখাটো টিপস দেওয়া এগুলো থেকে অনেক কিছু শেখা যায়। গত চারটা ম্যাচে রান করেনি কিন্তু ওর চলাফেরায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। ওর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে অনেক কিছু শেখা যায়। ওরা বড়ো প্লেয়ার হয়েছে এসব গুণের জন্য।’