ফরিদপুর সদরপুর উপজেলায় ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী চলাকালীন দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। তাদেরকে উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে।
ফরিদপুর-৪ সংসদীয় আসন সদরপুর, চরভদ্রাসন ও ভাঙ্গা উপজেলা নিয়ে গঠিত। এখানে গত জাতীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহকে পরাজিত করে বিপুল ভোটে জয়ী হন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন। এর পর থেকেই এই তিন উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এদের বেশির ভাগ নিক্সন চৌধুরীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে জানা গেছে। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের কর্মসূচি হাতে নেয় দুই গ্রুপ। প্রায় একই সময়ে দুই গ্রুপের মিছিল বের করা হয়। দুই পক্ষই উপজেলা স্টেডিয়াম গেট এলাকায় পৌঁছালে সংঘর্ষ বাধে। ধাওয়া পালটা ধাওয়ার পর এক পর্যায়ে ভাঙচুর করা হয় মঞ্চ।
এমপি নিক্সন সমর্থকদের অভিযোগ, কাজী জাফরউল্লাহর সাম্প্রতিক উস্কানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার গ্রুপের কর্মীরা মিছিল বের করে উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করতে যেতে চাইলে অন্য গ্রুপের নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও ধাওয়া পালটা ধাওয়া হয়। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও জাফরউল্লাহ গ্রুপের সমর্থক মশিউর রহমান মীম। তিনি পালটা অভিযোগ করে বলেন, নিক্সন সমর্থক উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী শফিকুর রহমানের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা এই ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে দায়িত্বরত চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
