আনন্দ ব্যাপারটা কী নিয়ে? আনন্দ স্পষ্টভাবে কোনো একটা বিষয় নিয়ে নয়, কারণ আনন্দ এমন কিছু নয় যা আপনি করেন, আনন্দ হলো সেটা যা আপনি হয়ে ওঠেন, এটা হলো চলার এক ধরন। যদি আপনার পার্থিব শরীর এক নির্দিষ্ট মধুরতায় পৌঁছায়, আমরা তাকে বলি সুখ। যদি আপনার মন এক নির্দিষ্ট মধুরতায় পৌঁছায়, আমরা তাকে বলি শান্তি বা খুশি। আর যদি আপনার প্রাণশক্তি এক নির্দিষ্ট মধুরতায় পৌঁছায়, আমরা তাকে বলি আনন্দ। আপনি যদি আপনার মধ্যে জীবনের মূল প্রক্রিয়াটাকে বিঘ্নিত না করেন, তাহলে আনন্দই হবে স্বাভাবিক পরিণাম। আনন্দ আপনার অর্জিত কোনো কীর্তি নয়; আনন্দ আপনার স্বাভাবিক অবস্থা।
আপনিই শুধু আনন্দময় হতে পারেন; কিন্তু ঠিক এই মুহূর্তে, প্রকৃতপক্ষে ‘আপনি’ বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। এখন আপনি যা, সে সবই আপনি যে পরিবেশগুলোর সম্মুখীন হয়েছেন, সেগুলো থেকেই সংগৃহীত। দুটো বিশাল স্তূপ আছে: একটা হলো শরীর, অন্যটা হলো মন। প্রকৃতপক্ষে, আপনার পার্থিব শরীরটা হলো আপনি যে খাদ্য আহার করেছেন তারই এক স্তূপ। আর আপনার মন হলো আপনার প্রোথিত বিভিন্ন ধারণার একটা স্তূপ। এমন নয় যে অন্য কেউ আপনাকে তছনছ করে ফেলেছে। এই স্তূপগুলো জোগাড় করার জন্য আপনি এতই উত্সাহী ছিলেন যে আপনি সেগুলোর মধ্যেই চাপা পড়ে গিয়েছেন, আর নিজেই জানেন না ঠিক এখন আপনি কোথায়। সমাজের ওপর দোষারোপ করা খুবই সহজ; কিন্তু প্রত্যেকটি মানুষ নিজের অন্তরে এটা বেছে নিতে পারে যে তার মুখোমুখি আসা সমস্ত প্রভাবের অভিজ্ঞতাগুলো কাজে লাগিয়ে সে কী করতে চায়।
আপনি বলতে পারেন, ‘এই সমাজে এত দুঃখ-দুর্দশা থাকতে আমি কেমন করে আনন্দে থাকতে পারি?’ যদি আপনার চারপাশের সমস্ত জায়গা দুর্দশাগ্রস্ত হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে সবচেয়ে ভালো যেটা আপনি করতে পারেন সেটা হলো আনন্দময় হয়ে থাকা; নয়তো এই দুনিয়াটা ভুলেই যাবে যে আনন্দ বলে কিছু আছে। দুর্দশা এবং যন্ত্রণাভোগ কারোর জীবনের কোনো দুর্ঘটনার ফলে বা কোনো বাহ্যিক পরিস্থিতি দ্বারা সৃষ্টি হয় না। বাহ্যিক পরিস্থিতির কারণে শারীরিক ব্যথা হতে পারে; কিন্তু কষ্টভোগ বা ভোগান্তি নয়। আপনি কষ্ট ভোগ করছেন কারণ আপনি যেভাবে চান, আপনার মনটা সেই অনুযায়ী চলছে না। আপনি নিজে যদি দুর্দশা তৈরি না করেন, আনন্দই হবে আপনার স্বাভাবিক অবস্থা।
আপনি যদি এটা না বোঝেন বা আপনার জীবনের এই মৌলিক সত্যটা স্বীকার না করেন, তাহলে আপনার আনন্দময় হওয়ার সম্ভাবনা সুদূর পরাহত। আনন্দকে আমাদের জীবনের ভিত্তিমূল হিসেবে দেখা, জীবনে অর্জনীয় কোনো বস্তু হিসেবে নয়—এটাই হলো সেই গোটা বিজ্ঞান এবং প্রজ্ঞা যাকে আমরা অন্তর্বিজ্ঞান বলে চিহ্নিত করি। শুধু এটা যদি ঘটে, তাহলেই অন্য সব কিছু ঘটতে পারে। তা না হলে, সর্বদাই, আপনি দুর্দশার আশঙ্কায় জীবন কাটাবেন। বাহ্যিকভাবে, শারীরিকভাবে, যে কোনো কিছুই ঘটতে পারে; কিন্তু বাহ্যিকভাবে যা কিছু ঘটতে পারে, তার তুলনায়, আপনার দুর্দশাগ্রস্ত, উত্কণ্ঠাগ্রস্ত, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে ওঠার ভয়টা আরো বেশি। সুতরাং, আপনার ভিতরে কী ঘটতে পারে, তা নিয়েই আপনি চিন্তিত। আপনি যদি আপনার জীবনে আনন্দ আনার জন্য বহির্জগতের ওপর নির্ভর করেন, তাহলে আপনার বোঝা দরকার, যে বহির্জগতে ১০০ ভাগই সেভাবে ঘটে না, যেভাবে আপনি চান। যখন এটাই বাস্তব, অন্তত এই একজন ব্যক্তি—আপনি—একে এমনই হওয়া উচিত, ঠিক যেভাবে আপনি চান।
যদি আপনি সেই রকমই হন, যেরকম আপনি নিজেকে চান, তাহলে আনন্দই হবে আপনার স্বাভাবিক নির্বাচন। সেটা এমন কিছু নয় যার পেছনে আপনাকে ছুটতে হবে। যদি আপনি আপনার সহজাত প্রকৃতিতে ফিরে যান, আনন্দে থাকাই হবে আপনার একমাত্র উপায়।
n সৌজন্যে :ঈশা ফাউন্ডেশন
