মো. আব্দুল হাই, জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা
জগন্নাথপুর উপজেলায় হাওরের ফসল রক্ষাবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ মন্থরগতিতে চলায় ফের বন্যায় ফসল বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে স্থানীয় কৃষকরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বৃহত্ নলুয়া ও মইয়ার হাওরসহ প্রায় ১৫টি ছোটো-বড়ো হাওরের ফসল রক্ষাবাঁধ নির্মাণ/সংস্কার কাজের জন্য জরিপ সম্পন্ন করে গণশুনানির মাধ্যমে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪২.৩১০ কিলোমিটার এলাকায় ৪৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করা হয়। নীতিমালা অনুসারে ৪৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি)-র মধ্যে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১০টি পিআইসির কার্যাদেশ দিয়ে নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে। গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর নলুয়ার হাওরের পোল্ডার-১ প্রকল্পের ফসল রক্ষাবাঁধের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান। উদ্বোধন শেষে তিনি বলেন, কৃষকের টাকায় বাঁধ নির্মাণ কাজ হচ্ছে। কোনো ধরনের অনিয়ম দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। কাজ তদারকির জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দেন তিনি। এছাড়াও ৩০ ডিসেম্বর প্রকল্পের ৩০ নম্বর পিআইসির পৌর শহরের স্লুইস গেইট এলাকায় বাঁধের কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সুনামগঞ্জের পরিচালক, স্থানীয় সরকার মো. এমরান হোসেন। এ সময় জগন্নাথপুরের ইউএনও মাহ্ফুজুল আলম মাসুমসহ পাউবোর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার এমরান হোসেন জানান, সঠিক সময়ে বাঁধের নির্মাণ কাজ সম্পন্নকরণে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাওরের ফসল রক্ষাবাঁধ নির্মাণ কাজ সম্পন্নকরণের নির্দেশনা থাকলেও এখনো ৩৫টি পিআইসি কমিটির কার্যাদেশ না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ফসল রক্ষাবাঁধ নির্মাণ/সংস্কার কাজ নিয়ে শংকা রয়েছে। কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে জমি থেকে ধীরগতিতে পানি কমতে থাকায় ধানের চারা রোপণ বিলম্বিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবোর) জগন্নাথপুরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. হাসান গাজী জানান, ৪৫টি প্রকল্পের মধ্যে ১০টি প্রকল্পের কার্যাদেশ পাওয়া গেছে। অন্য ৩৫টি প্রকল্পের কার্যাদেশ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে এ সপ্তাহে সবকটি প্রকল্পের কার্যাদেশ পাওয়া যাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহ্ফুজুল আলম মাসুম জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের কাজ শেষ করা হবে।
