সংস্কারের অভাবে নষ্ট হচ্ছে সাগরদাঁড়ির দত্তবাড়ী!

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৫৫

আশরাফ-উজ-জামান খান, কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা

মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ তীরের সাগরদাঁড়ির দত্তবাড়ীর প্রাচীন নিদর্শনগুলো পুনঃসংস্কার না করায় জানালা, দরজা, সংরক্ষিত আসবাবপত্রগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ মুহূর্তে ছোটো-বড়ো পাঁচটি স্থাপনা, মন্দির ও পুকুরঘাট সংস্কার করা জরুরি হয়ে পড়েছে। অপরদিকে, অতিথিদের বিশ্রামের জন্যে নির্মিত ডাক বাংলোটি এক যুগ আগে ভেঙে ফেলা হলেও তা দীর্ঘদিনেও নির্মাণ করা হয়নি। কেশবপুর উপজেলা সদর থেকে সাগরদাঁড়ির দূরত্ব ১৩ কিলোমিটার। পিচের রাস্তা হলেও রাস্তাটি প্রায় ১ যুগ সংস্কার না হওয়ায় খানাখন্দের কারণে যাতায়াত করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। মধুকবির জমিদার বাড়িটি ৪ একর ৩৩ শতক জমির ওপর অবস্থিত। ১৮৬৫ সালে পাকিস্তান সরকার কবি ভক্তদের থাকার জন্যে চার শয্যাবিশিষ্ট একটি রেস্টহাউজ নির্মাণ করে। এই রেস্টহাউজের একটি রুমেই করা হয় পাঠাগার। ১৯৬৬ সালে কবির বাড়িটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কাছে সরকার ন্যস্ত করে। কবির জন্মস্থান খ্যাত ঘরটি এখন আর নেই। কবির বাড়িসংলগ্ন আবক্ষ মূর্তিটি কলকাতার সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাংক স্থাপন করে দেয়। এলাকার অ্যাডভোকেট আবুবকর সিদ্দিকী বলেন, সংকার না হওয়ায় দত্তবাড়ীর প্রাচীন নিদর্শনগুলো নষ্ট হচ্ছে। যাতায়াত সুবিধার জন্য রাস্তাঘাটও সংস্কার জরুরি। মধুপল্লির দত্তবাড়ীর দায়িত্বে থাকা কাস্টডিয়ান ফজলুল করিম জানান, মধুমেলায় প্রতি বছর ৫ থেকে ৬ লাখ দর্শনার্থীর আগমন ঘটে থাকে। নানা সমস্যার কারণে পর্যটকরা দিনের আলো থাকতেই তারা ফিরে যেতে বাধ্য হয়।  উল্লেখ্য, আগামী ২৫ জানুয়ারি মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ২২ জানুয়ারি থেকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সাগরদাঁড়িতে বসছে সাত দিনব্যাপী মধুমেলা।