৪১তম বিসিএসে আবেদন প্রায় সাড়ে ৪ লাখ

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৩৮

৪১তম বিসিএসে রেকর্ডসংখ্যক পরীক্ষার্থী আবেদন করেছেন। শনিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৭৫১ জন পরীক্ষার্থী ফি জমা দিয়েছেন। ফি জমা দেওয়া যাবে আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত। ফি জমার অপেক্ষায় রয়েছেন আরো ১ লাখের মতো পরীক্ষার্থী। ফলে আগামী তিন দিনে আবেদন সংখ্যা সাড়ে ৪ লাখের কাছাকাছি যাবে। এর মাধ্যমে যে কোনো বিসিএসে পরীক্ষার্থীর আবেদন রেকর্ডসংখ্যক হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, কমিশনের প্রতি আস্থা এবং গ্রহণযোগ্যতার কারণে দিন দিন আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়ছে। আমরা শত ভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকি। আমরা আশা করছি ৪১তম বিসিএসে আবেদনকারীর সংখ্যা সাড়ে ৪ লাখে গিয়ে পৌঁছাবে। আগামী বছরের মার্চে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানান তিনি। 

বিভিন্ন ক্যাডারে ২ হাজার ১৬৬ শূন্যপদে প্রার্থী নিয়োগ দিতে গত ২৭ নভেম্বর ৪১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। ৫ ডিসেম্বর থেকে এই বিসিএসের জন্য আবেদন শুরু হয়। শনিবার ছিল অনলাইনে আবেদন করার শেষ সময়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এই বিসিএসে সবচেয়ে বেশি নেওয়া হবে শিক্ষা ক্যাডারে। এই ক্যাডারে ৯০৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রশাসনে ৩২৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। পুলিশে ১০০ জন, বিসিএস স্বাস্থ্যতে সহকারী সার্জন পদে ১১০ জন ও সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে ৩০ জনকে নেওয়া হবে। পররাষ্ট্রে ২৫ জন, আনসারে ২৩ জন, সহকারী মহা হিসাবরক্ষক (নিরীক্ষা ও হিসাব) ২৫ জন, সহকারী কর কমিশনার (কর) ৬০ জন, সহকারী কমিশনার (শুল্ক ও আবগারি) ২৩ জন ও সহকারী নিবন্ধক আট জন নেওয়া হবে। পরিসংখ্যান ও তথ্য    ব্যবস্থাপনা বিভাগে পরিসংখ্যান কর্মকর্তা ১২ জন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ে সহকারী যন্ত্র প্রকৌশলী চার জন, সহকারী ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট এক জন, সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক এক জন, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ২০ জন, সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) তিন জন নেওয়া হবে। তথ্য মন্ত্রণালয়ে সহকারী পরিচালক বা তথ্য কর্মকর্তা বা গবেষণা কর্মকর্তা পদে ২২ জন, সহকারী পরিচালক (অনুষ্ঠান) পদে ১১ জন, সহকারী বার্তা নিয়ন্ত্রক পদে পাঁচ জন, সহকারী বেতার প্রকৌশলী পদে ৯ জন, স্থানীয় সরকার বিভাগে বিসিএস জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলে সহকারী প্রকৌশলী পদে ৩৬ জন, সহকারী বন সংরক্ষক পদে ২০ জন। সহকারী পোস্ট মাস্টার জেনারেল পদে দুই জন, বিসিএস মেস্য ১৫ জন, পশুসম্পদে ৭৬ জন, কৃষি সমপ্রসারণ কর্মকর্তা ১৮৩ জন ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ছয় জন, বিসিএস বাণিজ্যে সহকারী নিয়ন্ত্রক চার জন। পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চার জন, বিসিএস খাদ্যে সহকারী খাদ্যনিয়ন্ত্রক ছয় জন ও সহকারী রক্ষণ প্রকৌশলী দুই জন, বিসিএস গণপূর্তে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ৩৬ জন ও সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) ১৫ জনসহ মোট ২ হাজার ১৩৫ জন কর্মকর্তাকে এই বিসিএসে নিয়োগ করা হবে।

উল্লেখ্য, ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ কেন্দ্রে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রিলিমিনারিতে ২০০ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্নে পরীক্ষা হবে ২ ঘণ্টা।

৪০তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষা শুরু : ৪০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়েছে। শুক্রবার সারাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর এবং ময়মনসিংহ কেন্দ্রের ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা নেওয়া হয়। লিখিত পরীক্ষায় রেকর্ডসংখ্যক উপস্থিত ছিল। পরীক্ষায় ৮৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ পরীক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আ ই ম নেছারউদ্দিন ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, আগামী ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত বিসিএসের আবশ্যিক লিখিত পরীক্ষাগুলো হবে। অন্যান্য বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষার তারিখ পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।

পিএসসির রেকর্ড অনুযায়ী, ৪০তম বিসিএসে ৪ লাখ ১২ হাজার ৫৩২ জন প্রার্থী আবেদন করেন।