উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৬ নম্বর ওয়ার্ড

বিদ্রোহী প্রার্থীকে মনোনয়ন আওয়ামী লীগে অসন্তোষ

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০২

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর মতিউর রহমান। তিনি গত নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে জিতেছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম ক্রিক। গত নির্বাচনের আগে ক্রিকের ওপর একাধিকবার হামলার ঘটনাও ঘটে। এই হামলার জন্য ক্রিক বর্তমান কাউন্সিলরকেই দায়ী করেছেন। এবার সেই বিদ্রোহী প্রার্থী মতিউর রহমানকেই কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এতে ক্ষুব্ধ এলাকার আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা। তারা বলছেন, আওয়ামী লীগের কাউকে মনোনয়ন দিলে তার পক্ষে কাজ করবেন সবাই।

১৬ নম্বর ওয়ার্ডে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন আট জন। এর মধ্যে চার জন আওয়ামী লীগের। বিএনপির দুই জন, জাতীয় পার্টির (জাপা) এক জন ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের এক জন। এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন কাফরুল থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. আলাউদ্দিন। সাবেক কাউন্সিলর প্রার্থী, স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সবাই চেয়েছিলেন দলীয় নেতা হিসেবে আলাউদ্দিন মনোনয়ন পাক; কিন্তু তাকে না দিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী মতিউর রহমানকে মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষুব্ধ সবাই। এছাড়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আরো দুই নেতা রফিকুল ইসলাম ও আজিজুর রহমান স্বপনও মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। বিদ্রোহী প্রার্থীরা বলছেন, মো. আলাউদ্দিনকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তার পক্ষে সবাই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন।

বিএনপি থেকে এখানে মনোনয়ন পেয়েছেন যুবদলের থানা সভাপতি হাবিবুর রহমান রাব্বি। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন একরাম হোসেন। তিনি থানা বিএনপির সেক্রেটারি। জাপা থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন থানার সহসভাপতি মুকুল আমিন ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের নূরুল হক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে। ৯ জানুয়ারি মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বদলের সুযোগ আছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

গতবারের কাউন্সিলর প্রার্থী মাহমুদা বেগম ক্রিকও চান আলাউদ্দিন মনোনয়ন পাক। স্থানীয় এমপি কামাল আহমদ মজুমদারও আলাউদ্দিনের পক্ষে। ওয়ার্ডের সব ধরনের নেতাও চাচ্ছেন এখানে মনোনয়ন বদলে আলাউদ্দিনকে দেওয়া হোক। সেটা সম্ভব না হলে প্রার্থিতা উন্মুক্ত করার দাবি আওয়ামী লীগের কর্মী, সমর্থক ও প্রার্থীদের। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত এক যুগ ধরে স্থানীয় এমপির তত্ত্বাবধানে আলাউদ্দিন এই ওয়ার্ডে অন্তত ২০টি সরু সড়ক প্রশস্ত করেছেন। এছাড়া ভাঙা সড়ক মেরামত, পয়ঃনিষ্কাশন, পানি সমস্যা সমাধানে কাজ করেছেন।

মো. আলাউদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমি যদি দলের মনোনয়ন পাই আর নির্বাচিত হই, তাহলে নাগরিকদের অভিযোগ জানাতে মোবাইল ফোনে অ্যাপ চালু করব। যে কোনো নাগরিক ঐ অ্যাপের মাধ্যমে কোনো সমস্যার কথা জানানো মাত্রই দ্রুত সমাধান করব।’ তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমি ২০টি উঠান বৈঠক করেছি। সেখানে সবাই আমাকে সমর্থন জানিয়েছেন।