স্থানীয় সরকার, মহিলা-শিশু মন্ত্রণালয় ও রেড ক্রিসেন্টকে ইসির চিঠি

উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন, ত্রাণ বিতরণ বন্ধের নির্দেশ

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০৩

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনি এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ও প্রকল্পের অর্থ ছাড় বন্ধ রাখতে হবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে। একইভাবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে সব ধরনের অনুদান, ত্রাণ বিতরণ ও ভিজিডি কার্ড ইস্যু কার্যক্রম বন্ধ এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকেও ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি বন্ধ রাখতে হবে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় পৃথক চিঠির মাধ্যমে এসব নির্দেশনা দিয়েছে। তবে একান্ত জরুরি ভিত্তিতে কোনো ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চালানোর প্রয়োজন হলে ইসির অনুমোদন নেওয়ার পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বিতরণের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও ত্রাণ বিতরণের কোনো কার্যক্রম আগে থেকে চলমান থাকলে তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চালান যাবে বলে চিঠিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।  

গতকাল শনিবার ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব আতিয়ার রহমানের সই করা এ সংক্রান্ত নির্দেশনা সংবলিত পৃথক চিঠি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং রেড ক্রিসেন্টের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ২২ ডিসেম্বর ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার এই দুই সিটিতে ভোট হবে। নির্বাচনি আইনানুযায়ী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা থেকে ফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের তারিখ পর্যন্ত কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো রাজনৈতিক দল, অন্য কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান নির্বাচনি এলাকায় অবস্থিত কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে বা গোপনে কোনো প্রকার চাঁদা বা অনুদান দিতে বা অঙ্গীকার করতে পারবেন না। এই আইন অমান্য করলে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

চিঠিতে বলা হয়, নির্বাচনী কার্যক্রম প্রভাবমুক্ত রাখতে নির্বাচনী কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট সিটির কোনো সম্পত্তি তথা অফিস, যানবাহন, মোবাইল ফোন, টেলিফোন, ওয়াকিটকি বা অন্য কোনো সুযোগ সুবিধা নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করতে পারবেন না। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় এসব সামগ্রী ভাড়ায়ও ব্যবহার করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। এমনকি সিটি করপোরেশনের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে কোনো অবস্থাতেই নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করা যাবে না। তাছাড়া, কোনো প্রার্থী সিটি করপোরেশনের দরপত্র আহ্বান, গ্রহণ কিংবা বাতিলের বিষয়েও সিদ্ধান্তে অংশ নিতে পারবেন না।

চিঠিতে আরো বলা হয়, নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রাজস্ব বা উন্নয়ন তহবিলভুক্ত কোনো প্রকল্পের অনুমোদন, ঘোষণা বা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কিংবা ফলক উন্মোচন করতে পারবে না। কোনো সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সরকারি বা আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে কোনো প্রকার অনুদান ঘোষণা, বরাদ্দ বা অর্থ অবমুক্ত করতে পারবে না। সিটি করপোরেশনের মেয়র, কাউন্সিলর বা অন্য কোনো পদাধিকারী সংশ্লিষ্ট করপোরেশন এলাকায় উন্নয়নমূলক কোনো প্রকল্প অনুমোদন বা আগের অনুমোদিত প্রকল্পে কোনো অর্থ ছাড় করতে পারবে না।