প্রয়োজনে প্রার্থিতা পরিবর্তন

মাঠে একক কাউন্সিলর প্রার্থী রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২০, ০০:২৯

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে দল সমর্থিত একক প্রার্থী রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল শনিবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের মুলতবি যৌথসভায় সভাপতির বক্তৃতায় কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি তিনি এ নির্দেশ দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে কোন ওয়ার্ডে প্রার্থিতা পরিবর্তন করতে হলে করুন। তারপরও মাঠে কাউন্সিলর পদে দল সমর্থিত একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে হবে। বৈঠক সূত্র ইত্তেফাককে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রসঙ্গত, দুই মেয়র প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার পাশাপাশি দল সমর্থিত একক কাউন্সিলর প্রার্থীও ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ। দলের এ সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রতি ওয়ার্ডে এক বা একাধিক আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন।

এদিকে দল মনোনিত দুই মেয়র প্রার্থী ও দল সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে ডোর-টু-ডোর গণসংযোগ করতে নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনে জিতলে হলে ভোটারদের ঘরে ঘরে যেতে হবে। শুধু বাইরে বাইরে আর অফিসে বসে গণসংযোগ করলে হবে না। সিটি নির্বাচনকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা নির্বাচনে জিততে চাই। সেইভাবেই আমাদের চেষ্টা করতে হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। জনগণ যাকে ভোট দেবে সেই বিজয়ী হবে। আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে এজন্য ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগসহ সকল সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

বৈঠক সূত্র জানায়, সভায় মূলত দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম ও দক্ষিণে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসকে কিভাবে বিজয়ী করা যায় সে বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নেতাদের কাছে পরামর্শ চান। এ সময় ঢাকা উত্তরে সমন্বয়ের দায়িত্ব পাওয়া উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ, দক্ষিনের সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আমির হোসেন আমু নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। এরপর আরও কয়েকজন সিনিয়র নেতা কথা বলেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা যেন বিজয়ী হয় সে বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়। ১২৯ টি ওয়ার্ডে যেন দলের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী কাউন্সিলর পদে নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দিতা না করে সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। কাউন্সিলর পদে কোথাও প্রার্থী বদলের প্রয়োজন পড়লে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ সভায় মার্চে অনুষ্ঠিতব্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। যৌথ সভায় নতুন বছরের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং ‘মুজিববর্ষ’ পালনসহ সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে কাউন্সিলর পদে বিদ্রোহীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছে আওয়ামী লীগ। প্রতিটি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের এক বা একাধিক নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাদের মনোনয়নপত্র বৈধও ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এই বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে দুঃচিন্তায় পড়েছে আওয়ামী লীগের দলীয় হাইকমান্ড। দলের পক্ষ থেকে বিদ্রোহীদের নানাভাবে বোঝানো হচ্ছে; কিন্তু তারা কোনো কিছু বুঝতে নারাজ। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আজ রবিবার থেকে কেন্দ্রীয় নেতারা বিদ্রোহীদের বোঝাতে মাঠে নামবেন। আগামী ৯ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। বিদ্রোহীরা দলের হাইকমান্ডের কাছে জোর লবিং-তদবির করছেন সমর্থন আদায়ের জন্য। এদিকে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড থেকে মনোনয়ন ঘোষণা দেওয়ার পরও কয়েকজন প্রার্থী পরিবর্তন করায় এই লবিং-তদবির আরও জোরদার হয়েছে।