‘নিরাপদ খাদ্য পেতে একটু দাম বেশি দিতে হবে’
ইত্তেফাক রিপোর্ট
নিরাপদ খাদ্য পেতে হলে একটু বেশি দাম দিয়ে সবজি কিনতে হবে বলে মনে করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য। তিনি বলেন, দাম বেশি পেলে কৃষকরাও নিরাপদ সবজি চাষে উত্সাহিত হবে। এছাড়া সবজি চাষ করতে যে সমস্ত উপাদান লাগে সেগুলোর খরচ আগের চেয়ে বেড়েছে। তবে মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত থেকে কৃষকদের রক্ষা করা গেলে অনেকাংশে দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
গতকাল রবিবার রাজধানীর ফার্মগেটস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) অডিটোরিয়ামে পঞ্চমবারের মতো জাতীয় সবজি মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মেলায় অনেক সবজির প্রযুক্তি আনা হয়েছে। এ প্রযুক্তিগুলো সম্প্রসারণের মাধ্যমে জেলা বা উপজেলায় নিলে মানুষ আরো বেশি উপকৃত হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুল মুঈদের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার উইংয়ের পরিচালক কৃষিবিদ মো. কবির হোসেন।
গতকাল সমাপনী অনুষ্ঠানে শাক-সবজি আবাদে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, জেলা ও মেলায় অংশগ্রহণকারী স্টলের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। জাতীয় পর্যায়ে ২০১৯ সালে শাকসবজি আবাদে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্যক্তিগতপর্যায়ে ঢাকার সাভার উপজেলার মো. কোব্বাত হোসাইনকে প্রথম পুরস্কার প্রদান করা হয়। দ্বিতীয় হয়েছেন দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার মো. আজাগার আলী। তৃতীয় হয়েছেন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মোছা. নুরুন্নাহার বেগম ।
এছাড়াও বাড়ির ছাদে শাকসবজি আবাদে বিশেষ অবদানের জন্য ব্যক্তিপর্যায়ে ঢাকার মিরপুর এলাকার শাহানাজ মোস্তফা ও চট্টগ্রামের লালখান বাজারের মোস্তাকুর রহমান এবং জাতীয় পর্যায়ে ঢাকার শেওড়াপাড়ার মো. দুলু মিয়া, মানিকনগরের জাহানারা লাউজু এবং ওয়ারীর মো. আজিজুল ইসলামকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়। শাক-সবজি উত্পাদনে হেক্টর প্রতি গড় ফলন সর্বোচ্চ ও দেশের সবজির চাহিদা পূরণে বিশেষ অবদান রাখায় জেলাপর্যায়ে প্রথম হয়েছে যশোর, যৌথভাবে দ্বিতীয় রংপুর, জামালপুর এবং ও তৃতীয় পাবনা জেলা।
স্টলের যথার্থতা, সাজসজ্জা, প্রদর্শিত দ্রব্যের মান ও পরিমাণ ও প্রযুক্তিগত উত্কর্ষতা উপস্থাপন করে জাতীয় সবজি মেলা ২০২০ এ অংশগ্রহণকারী স্টলগুলোর মধ্যে সরকারিপর্যায়ে প্রথম হয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)। দ্বিতীয় হয়েছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এবং যৌথভাবে তৃতীয় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তর (ড্যাম)। বেসরকারিপর্যায়ে প্রথম হয়েছে এসিআই সীড, এসিআই লিমিটেড , দ্বিতীয় মেটাল এগ্রো লিমিটেড এবং তৃতীয় কৃষক বাংলা এগ্রো প্রোডাক্টস। মেলায় অংশগ্রহণকারী সকল প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়। তিন দিনের এ মেলায় প্রায় ৩০ লাখ টাকার সবজি বিক্রি হয়।
