‘মেসি বেনজামাও এমন গোল করেছেন’

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৩২

স্পোর্টস রিপোর্টার

রহমতগঞ্জের গোলকিপার লিটন টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ভালো খেলে আসছিলেন। তার পারফরম্যান্স চোখে পড়ার মতো। কিন্তু কাল ফাইনালে বসুন্ধরার বিপক্ষে একটা ভুলেই রহমতগঞ্জের তরী ডুবল তীরে এসে। খেলা শেষে পোষ্টের নিচে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন লিটন। তাকে আদর করে তুলে আনা হলো। অশ্রুসিক্ত লিটন বলেন, ‘কামারা আমাকে ব্যকপাস করে বললে ইজি বল, ইজি বল। কলিন্দ্রেসকে দেখলাম কামার দিকে ছুটল। কিন্তু হঠাত্ দেখি আমার সামনে। আমার জীবনে এমন ভুল আমি করিনি।’ লিটনের ভুল নিয়ে রহমতগঞ্জ অধিনায়ক গিনির ফুটবলার মামুদু বাহ বললেন, ‘এটা নরমাল। ফুটবলে এমনটা হতে পারে। আপনারা ভুলে যান কেন লিটনের ভালো খেলার কারণেই আমরা রহমতগঞ্জ ফাইনালে উঠেছি। আমরা তো ভাবিনি ফাইনালের কথা।’

খেলা শেষে উল্লাসে আনন্দে মেতে থাকা অধিনায়ক কলিন্দ্রেসের কোমরে কোষ্টারিকার পতাকা জড়ানো। পিঠে চ্যাম্পিয়ন লেখা গেঞ্জি। সংবাদ মাধ্যমের মধ্যে ঘিরে থাকা কলিন্দ্রেস বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। লিটনের ভুলে গোল পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন বসুন্ধরা। কলিন্দ্রেস গোল পেয়েছেন।  বলছিলেন, ‘আমাদের ভাগ্য ভালো বলেই এটা হয়েছে।’ রাশিয়া বিশ্বকাপ খেলা কোষ্টারিয়ার এই ফুটবলার বললেন, ‘ইংলিশ ফুটবলে লিভারপুলের ম্যাচে এমন ঘটনা আমি দেখেছি। মেসি, বেনজামাও আমার মতো এমন গোল পেয়ে দলকে ম্যাচ জিতিয়েছেন। আমিও সেই সুযোগ পেয়ে কাজে লাগিয়েছি।’

বসুন্ধরার স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজন খুশি। গত মৌসুমে লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ফেডারেশন কাপেও ট্রফি তুলে নিয়েছে।  আমাদের দল ভালো খেলেছে তবে রহমতগঞ্জও ভালো খেলেছে।

মন ভালো নেই রানার্সআপ রহমতগঞ্জ কোচ গোলাম জিলানীর। বসুন্ধরাকে এগিয়ে রেখে জিলানী বললেন, ‘ওরা বেটার টিম। ফরেন ভালো, দেশিও ভালো। আমাদের তরুণ দল।  আমরা পারব না সেটা জানি। তাই কাউন্টার আক্রমণে খেলেছি। রহমতগঞ্জ প্রথম গোল হজম করেছে তখন নাজারভ আহত হয়ে স্ট্রেচারে। ১০ জন ছিল মাঠে। ঠিক ঐ সময় আমরা গোল হজম করেছি। দ্বিতীয় গোলটা হজম করেছে গোলকিপার লিটনের ভুলে। কি আর করব বলেন।’ মাইকে বলা হচ্ছে রানার্সআপ ট্রফি নিতে, তখন পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে ওঠার পথে জিলানী বললেন, ‘মনটা ভালো নেই। জিততে পারলে ভালো লাগত। খুব আফসোস লাগছে। ভালো খেলে হারলে এতো কষ্ট থাকত না। ’

১৯৫০ ব্রাজিল বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনালের সঙ্গে মিল আছে কালকের ফেডারেশন কাপ ফুটবল ফাইনাল। ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন নিশ্চিত ধরে নিয়ে ফাইনালের আগেই উত্সব করে ফেলেছিল। উরুগুয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। রহমতগঞ্জ সেমিফাইনাল জয় করেই উত্সব করেছে। ক্লাব আঙ্গিনায় আলোকসজ্জা, পথে পথেও আলোকসজ্জার কথা জানিয়েছেন ক্লাব কর্মকর্তারা। কিন্তু ট্রফি জিততে না পারার কষ্টটা ভুলে যাওয়া কঠিন হয়ে গেল রহমতগঞ্জবাসীর জন্য। ৭৭ সালে লিগ ফাইনাল খেলে আবাহনীর কাছে হেরে রানার্সআপ হয় রহমতগঞ্জ, তারও আগে লিবারেশন কাপ ফুটবলের ফাইনালে আবাহনীর কাছে হেরে রানার্সআপ হয় রহমতগঞ্জ। ৯৪ সালে নেপালে কিংস কাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয় এবং ৯৫ সালে একই টুর্নামেন্টে রানার্সআপ হয়েছে জানিয়েছেন দলের সহকারী ম্যানেজার এবং সাবেক ফুটবলার জামাল উদ্দিন।