ছবিরহাট টিএসসি চত্বর
বাংলা একাডেমির বিপরীত দিকসহ ১৩টি প্রবেশদ্বার
আসিফুর রহমান সাগর
চিরচেনা রূপ বদলে যাচ্ছে বইমেলার। বিশেষ করে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যে রূপ গড়ে উঠেছিল এবার সেই স্থান থেকে সরে গিয়ে নতুন অবয়বে আয়োজিত হবে অমর একুশে বইমেলা। এ বছর মেলা প্রাঙ্গণ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মূল স্থান থেকে কিছুটা পশ্চিম দিকে সরে যাবে । তবে ছবিরহাট থেকে শুরু হয়ে বিস্তৃতি গড়াবে তিন নেতার মাজার প্রাঙ্গণ পর্যন্ত। আর মেলা আগে যেখানে অনুষ্ঠিত হতো সেখানে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উত্সব আয়োজনের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এবারের বইমেলায় বড়ো একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে মেট্রোরেলের কাজ। মেলার সময় মেট্রোরেলের কাজ সরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানালেও স্থান পরিবর্তন হওয়ায় বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ শাহবাগ থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত পুরো রাস্তায় মেট্রোরেলের কাজ মেলা চলা পর্যন্ত স্থগিত রাখার প্রস্তাব জানায়। কিন্তু সেটি পুরোপুরি সম্ভব হবে না। তাই, নির্বিঘ্নে যাতে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়, মানুষ যাতায়াত করতে পারে সেই ব্যবস্থা মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ করবে বলে জানা গেছে।
সরকার ঘোষিত মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ২০২০ সালের গ্রন্থমেলা উত্সর্গ করা হবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। যার ছোঁয়া থাকবে মেলার সজ্জায়, বইয়ের পাতায়। ইতিমধ্যেই প্রণীত মেলার নীতিমালায় এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে মেলা পরিচালনা কমিটি। আগামী ১ থেকে ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে অমর একুশে গ্রন্থমেলা।
এবারের মেলায় আগতরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ছবিরহাট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বর এবং বাংলা একাডেমির বিপরীত পাশ দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। সব মিলিয়ে ১৩টি প্রবেশদ্বার দিয়ে মেলায় প্রবেশ করা যাবে। তবে মেলার পরিসর ২০১৯ সালের থেকে বাড়ছে না।
মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও মেলা আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমির পরিচালক ড. জালাল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পূর্ব পাশে নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত কোনো আয়োজন করা সম্ভব নয়। সেদিক বিবেচনা করে এবারের মেলা উদ্যানের পশ্চিম পাশে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মেলার ডিজিটাল সার্ভের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৯ সালের মতো ২০২০ সালের গ্রন্থমেলার নকশা ও সজ্জার দায়িত্বে রয়েছেন এনামুল করিম নির্ঝর। প্রাথমিক নকশা ইতিমধ্যেই করা হয়েছে। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী জানান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এই গাছগুলোকে সুন্দরভাবে রেখেই এবার মেলা করতে হবে। এটাকেই আমরা একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। যে পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাচ্ছি তাতে বেশ নান্দনিক একটি মেলা আমরা সবাই উপহার দিতে পারব বলে বিশ্বাস করি।
