পরীক্ষণের নাম: দর্পণে সৃষ্ট প্রতিবিম্বের দুরত্ব (জ্বলন্ত মোমবাতির উপর পানি ঢালা )

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:১১

ব্যবহারিক বিজ্ঞান ক্লাস

সঞ্জীব কুমার বর্মণ

সহকারী শিক্ষক ও উদ্ভাবক, এটুআই

 ৬ষ্ঠ, অধ্যায়: নবম শ্রেণি

 

কোনো বস্তু থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়লে আমরা বস্তুটি দেখতে পাই। কিন্তু কোনো বস্তু থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে কোনো মসৃণ বা চকচকে পৃষ্ঠে পড়লে ঐ পৃষ্ঠে বস্তুটির প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়। কোনো দর্পণ বা আয়না ও স্থির পানি এর পরিচিত উদাহরণ।

দর্পণের পেছনে সৃষ্ট প্রতিবিম্বের দুরত্ব কি তুমি দর্পণ থেকে যে দুরত্বে দাঁড়িয়ে আছ তার সমান? না বেশি বা কম।

দর্পণের দিকে এক পা এগিয়ে যাও। প্রতিবিম্বের সমপরিমাণ দুরত্বে সামনে এগিয়ে এসেছে, না পিছিয়ে গেছে? নাকি একই জায়গায় স্থির আছে। পরীক্ষণটি আমরা একটি সহজ পরীক্ষণের মাধ্যমে করতে পারি।

আজকের এই পরীক্ষণটির মাধ্যমে দর্পণে সৃষ্ট প্রতিবিম্বের দুরত্ব  পর্যবেক্ষণ করতে পারব।

পরীক্ষণটি করতে প্রয়োজনীয় উপকরণ যা যা লাগবে:১টি বড় (১৮ইঞ্চি/১৮ইঞ্চি) স্বচ্ছ কাঁচ,কাঁচ আটকানোর জন্য কিছু বই বা ফাঁকা ৪টি ক্লোল্ড ড্রিংক্সের বোতল,দুটি মোমবাতি,কাঁচি এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী ।

কার্যপদ্ধতি:

eকাঁচটিকে টেবিলের উপর দাঁড়ানো অবস্থায় এমন ভাবে স্থাপন করি (বই বা বোতলের মাঝে কেটে) যেন নড়াচড়া না করে।

eএকটি মোমবাতি জ্বালিয়ে কাঁচের সামনে টেবিলের উপর রাখি।

eকাঁচের পিছনে জ্বলন্ত মোমবাতির প্রতিচ্ছবি দেখতে পাওয়া যাবে।

eদ্বিতীয় মোমবাতিটি কাঁচের পেছনে এমনভাবে দাঁড় করাই যাতে জ্বলন্ত মোমবাতির শিখাটি দ্বিতীয় মোমবাতির শিখার মতো মনে হয়।

eকাঁচ হতে জ্বলন্ত মোমবাতির দুরত্ব এবং দ্বিতীয় মোমবাতির দুরত্ব মাপি।

eকাঁচ হতে জ্বলন্ত মোমবাতির দুরত্ব এবং দ্বিতীয় মোমবাতির দুরত্ব সমান।

eকাঁচের বিপরীত পার্শ্বে মোমবাতির প্রতিচ্ছবির উপর একটি ফাঁকা গ্লাসের উপর পানি ঢালি। মোমবাতির প্রতিচ্ছবির উপর পানি ঢালার কারণে জ্বলন্ত মোমবাতির উপর পানি ঢালা মনে হবে।

পর্যবেক্ষণ:কাঁচ হতে জ্বলন্ত মোমবাতির দুরত্ব এবং দ্বিতীয় মোমবাতির দুরত্ব সমান হওয়ার কারণ কী?

বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:মোমবাতির প্রতিচ্ছবির কারণে এরকম ঘটনা ঘটে। কাঁচ হতে  মোমবাতির দূরত্ব এবং প্রতিবিম্বের দূরত্ব পরস্পর সমান।

সিদ্ধান্ত:দর্পণ হতে বস্তুর দুরত্ব ও বিম্বের দুরত্ব সমান। দর্পণ থেকে তোমার দুরত্ব ও প্রতিবিম্বের দুরত্ব সমান।

সতর্কতা:সম্পূর্ণ কাজটি সাবধানে করতে হবে যাতে হাতে আগুন না লাগে।